আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেছেন, ন্যায়বিচার মানে মনিবের আনুগত্য নয়, বরং আইনের আনুগত্য। আমরা (বিচারক) যদি সজাগ এবং সৎ থাকি, তাহলে আমাদের জাজমেন্ট ভালো হবে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১ যুগ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারকদের উদ্দেশে বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘আপনি যখন বিচার করবেন, তখন কে কী মনে করবে, প্রাইম মিনিস্টার কী বলবে, তাদের মুখের দিকে চেয়ে বিচার করলে সুবিচার হবে না।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যদি আপনার চরিত্রের মধ্যে না থাকে, তাহলে হাজার নিয়ম-নীতি থাকলেও আপনি স্বাধীন হতে পারবেন না। বিচারপতিকে হতে হবে মোটিভলেস এবং স্পেশালিস্ট। সুবিচার অনেক সময় আইন মেনে হবে না।’
সাবেক এই বিচারপতি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের চরিত্রে এবং অনুভূতিতে স্বাধীনতার বোধ থাকা প্রয়োজন, তাহলেই সত্যিকারের স্বাধীনতা আসবে।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাসন বিভাগে সম্পৃক্ত করা উচিত না। বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পেলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব হয়। হয়তো বিচার বিভাগ হতে আমরা যতটা চাই, ততটা পাইনি। কিন্তু স্বাধীনতার পর হতে বিচার বিভাগের অর্জন কম নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
![]()