৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৫৭
শিরোনাম:

নজিরবিহীন হামলা, সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন

দেশের অবস্থা নিয়ে সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা মেট্রোপলিটন সেন্টারে নিজ চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কামাল হোসেন বলেন, দেশের অবস্থা নিয়ে সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামধারী ছাত্রলীগের কর্মীরা ডাকসু ভিপি নুরসহ সাধারণ ছাত্রদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, সংবিধানের ওপর হামলা হয়েছে। পেশিশক্তি ব্যবহার করে নজিরবিহীন হামলা। সামনের বছর বৃহত্তর ঐক্য-কে সুসংহত করে যা করার সব করব। সংবিধানে দেয়া জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের ওপর আজ নানাভাবে হামলা হচ্ছে।

গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই হামলায় নুরসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। এছাড়া বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হন।

ভিপি নুরসহ আহত ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ফারাবীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এছাড়া আহত বাকিদের চিকিৎসা দিয়ে ঢামেক থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

হামলার পর সন্ধ্যায় আহত নুরকে দেখতে হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগের নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক ও নাছিম। তবে হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে সামনে পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেয়া শুরু করেন অনেকে। এরপর তারা সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে যারা স্লোগান দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে তারা কী উদ্দেশে এগুলো করছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখবে। এছাড়া নুরদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তারা।

সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ডাকসু হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডাকসুতে যে হামলা হয়েছে তা নিন্দনীয়। হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত হোক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলের পক্ষ থেকে এ হামলায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামধারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, এ বি এম সোহেল, হাসান আল মামুন, রাশেদ খান ফারুকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। কেউ কেউ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের হত্যা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ডাকসু ভবনে আলো নিভিয়ে বর্বরোচিত নির্মম হামলা চালানো হয়। তুহিন ফারাবী লাইফ সাপোর্টে আছে। আমরা দেশবাসীকে দ্ব্যর্থহীন জানাতে চাই, তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যে জঘন্য ও বর্বর হামলা করা হয়েছে তা লক্ষ শহীদের প্রতি চরম অবমাননা।

তিনি বলেন, ভোট ডাকাত সরকার টিকে থাকার জন্য একের পর এক ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ওপর পৈশাচিক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ঐক্যফ্রন্ট মনে করে, দল ও মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

নুরসহ ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, সংবিধানেই বলা আছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার কথা।

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্ব দেয়ার পর আবরারকে হত্যা করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পর, নতুন নেতৃত্ব আসার পর নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র।

তিনি বলেন, বিচার দাবি করে ফল হবে না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আন্দোলন করতে হবে।

দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে রব বলেন, আমরা আজ জরুরি বৈঠকে বসেছি। সকল নেতৃবৃন্দ আসতে পারেননি। পরবর্তীতে আমরা আবার বৈঠক করে আপনাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।

ভারতের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) নিয়ে মন্ত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এটি করারও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন রব।

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Loading