২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:১৫
শিরোনাম:

প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে সংশয় দুর্যোগ ঠেকানো বাঁধ তৈরীতে বালুর ব্যাবহার!

নইন আবু নাঈম বাগেরহাট ঃ ঝড়-জ্বলোচ্ছাস, বন্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকুলীয় জনগোষ্ঠীর এক প্রকার রক্ষা কবজ শরনখোলা উপজেলা ঘেষা বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পাউবোর ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরীবাঁধটি মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে । যার ফলে বাঁধের স্থায়ীত্ব নিয়ে শংঙ্কা দেখা দেয়ার পাশাপাশি উপকুলে বসবাসরত বাসিন্দারা অনেকটা হতাশ হয়ে উঠেছেন । এছাড়া বাঁধের উপরের অংশে সামান্য মাটির ব্যাবহার করলেও সে ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে
অভিযোগ স্থানীয়দের ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানাগেছে , বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৭ সালে ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার দৈঘ্যের বাঁধ নির্মান কাজ শুরু করেন চায়নার (এইচ. সি. ডব্লিউই) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । পার্শবর্তী উপজেলা মোড়েলগঞ্জের খাউলিয়া ইউনিয়ন সহ শরনখোলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ৬৩ কি.মি. বাঁধের মধ্যে ১৯৮৪ সালে নির্মিত বলেশ্বর ও ভোলা নদীর সাথে সংযুক্ত খাল গুলোর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য তৎকালীন সরকারের নির্মানাধীন জরাজীর্ন ৩২টি সহ প্রায় অর্ধশত স্লইজগেইট (জলকপাটের) নুতন করে নির্মান কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । কিন্তু মেঘা এ প্রকল্পের তদারকির
দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের তেমন নজরদারি না থাকায় ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা মাটির পরিবর্তে বাঁধের পাস থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে স্লুইজগেইট সহ কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রাস্থা (বাঁধ) নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন । যার ফলে উপকুলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষার হাতিয়ার পাউবোর বাঁধটির স্থায়ীত্ব নিয়ে শংঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকুীয় জনগোষ্ঠী। পাশাপাশি বাঁধের পাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় উপজেলাবাসীর টেকসই ভেরীবাঁধ অনেকটা হুমকির মুখে থাকায় হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ঠিকাদারদের একটি সুত্র জানায়, প্রতিটি স্লুইজগেট নির্মানের পর তা মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে লক্ষ লক্ষ ফুট (সি.এফ.টি) নি¤œ মানের বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে । ওই গেইট গুলো ছেড়ে দেওয়ার পর তা থেকে পানি নিঃস্কাশন শুরু হলে ভবিষ্যতে তা লিক করে ভিতরে পানি প্রবেশ করে বালু সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । ফলে স্লুইজগেট গুলো এলাকা বাসীর কোন কাজে আসবে না । এছাড়া বাঁধের উপরের অংশে সামান্য কিছু মাটি দিলেও কোন ধরনের পরীক্ষা না করেই ময়লা যুক্ত. কাঁদা সহ স্যাত স্যাতে মাটি দিয়ে ভেরীবাঁধে প্রলেভ দিয়ে অনেকটা দ্বায় সারছেন
সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, উপজেলার তাফালবাড়ি, চালিতাবুনিয়া, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা সহ কয়েকটি এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন , প্রসাশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বালু লুট করলেও  রহস্য জনক কারনে তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং বাঁধে বালুর ব্যাবহার বন্ধ সহ প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানতে না পারলে ভেরীবাঁধ শরনখোলাবসীর কোন উপকারে আসবে না ।

অন্যদিকে , ঢাকাস্থ দীপ্তবাংলা হিউম্যান রাইটস্ধসঢ়; ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা এবং উপজেলার রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ রেজাউল করিম খান রেজা বলেন , বাজার রক্ষার নামে অবৈধ দখলদারদের বাঁঁচিয়ে শরণখোলা উপজেলার প্রধান খালের ভিতর থেকে ৯৫ ফুটের শহর রক্ষাবাঁধ নির্মিত হলে ধীরে ধীরে খালটি মারা যাবে । যার ফলে উপজেলার দু, লক্ষাধিক মানুষের কৃষি ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহারের জন্য পানির প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষের দুঃখ-কষ্ট সহ পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে ।এছাড়া গাছপালা মারা যাওয়া পাশাপাশি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কৃষি নির্ভরশীল পরিবার গুলো দিশেহারা হয়ে পড়বে। রায়েন্দা খাল রক্ষায় ইতোমধ্যে তিনি হাইকোটে একটি রিট পিটিশন দ্বায়ের করেছেন । কিন্তু হাই কোর্টের সেই নির্দেশ মানছেন না সংশ্লিষ্টরা । এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি ।

তবে , প্রকল্প তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা (মান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা) প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্প এলাকায় উপযুক্ত মাটির সংকট রয়েছে এবং বাঁধের নিচের অংশে বালু দেয়ার নিয়ম আছে । তাই কোন সমস্যা হবে না । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্বোলন কারি ব্যাক্তিদের বিরুদ্বে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে । এদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না । পানি উন্নয়ন র্বোড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান বলেন,এ ক্ষেত্রে পাউবো বাগেরহাট অফিসের কিছুই করনীয় নেই। প্রকল্পটি শেষ হলে

আমাদেরকে শুধু বুঝিয়ে দেয়া হবে । এ বিষয়ে ,প্রকল্পটির ডেপুটি টিম লিড়ার মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, নিয়ম অনুসারে ভেরীবাঁধের কাজ চলছে ।এবং সব ক্ষেত্রে আমাদের তদারকি আছে । তবে, ২/১টি স্থানে কিছু বালুর ব্যাবহার হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়ীত্ব নিয়ে কোন সংশয় নেই । এবং অবৈধ বালু উত্তোলন দেখার দ্বায়িত্ব প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নয় । এটা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রসাশনের বিষয় ।

Loading