২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:১৪
শিরোনাম:

শরণখোলায় হাজিরায় স্বাক্ষর না করেওবেতন-ভাতা নিচ্ছেন শিক্ষিক!

নইন আবু নাঈম বাগেরহাট ঃ বাগেরহাটের শরনখোলায় শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেও প্রায় তিন বছর ধরে বেতন ভাতা তুলে যাচ্ছেন এক সহকারি শিক্ষক । এক মৌখিক নির্দেশে ওই শিক্ষক বর্তমানে উপজেলার ১৩ নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সুত্র জানায়। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোসা- ছবি আক্তার ২০১৬ সালে সহকারি শিক্ষক পদে উপজেলার ৮৯ নং গাজী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন । কিছুদিন পর তার বাড়ির কাছাকাছি ১৩ নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হওয়ার জন্য তৎকালিন শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন এবং ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ছবি আক্তার
বর্তমানে কর্মরত বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন । সেই থেকে প্রায় ৩ বছর ধরে ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় কোন প্রকার স্বাক্ষর না করেও রহস্য জনক কারনে নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা তুলে যাচ্ছেন । নাম প্রকাশ না করার
শর্তে ,বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন , বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে এমন নিয়ম বর্হিরভুত কাজ হচ্ছে । এ ব্যাপারে গাজীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদা আক্তার বলেন, ছবি গত প্রায় ৩ বছর পুর্বে আমার স্কুল থেকে বদলি হয়ে গেছে । আমার স্কুলের হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই এবং তিনি এখানে আসেন না । তবে, তার বেতন কোথা থেকে
কিভাবে হয় তা জানা নাই ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এছাড়া ১৩ নং খোন্তাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিপুল বিহারী রায় বলেন ,তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা
মোহম্মদ আক্তার হোসেনের এক মৌখিক নির্দেশে আমি গাজিপাড়া স্কুলের সহকারি শিক্ষক ছবি আক্তারকে আমার স্কুলে ক্লাস করতে বলি । সেই থেকে তিনি এখানে ক্লাস করছেন । তবে, আমাদের শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই ।এমনকি স্কুলে কোন শিক্ষক সংকট নেই । এছাড়া তার বদলী সংক্রান্ত কোন কাগজ পত্র এ পযুন্ত আমি পাইনি এবং কোন স্কুল থেকে তার বেতন -ভাতা হচ্ছে তা আমি কিছুই জানি না । এ বিষয়ে শিক্ষক ছবি আক্তার বলেন ,আমি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০১৭ সালে বদলী হয়ে ১৩নং খোন্তাকাটা স্কুলে যোগদান করি। আপনি কিছু জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ
করুন বলে অন্য কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি । তবে , এ ব্যাপারে খোন্তাকাটা ক্লাষ্টারের তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান পাইক বলেন , শিক্ষক ছবি আক্তার ১৩ নং খোন্তাকাটা বিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত কোন শিক্ষক নয় । সুতারং ওই স্কুলের হাজিরা খাতায় সে স্বাক্ষর করল কি না ,তা আমার দেখার বিষয় নয় ।

নিয়মতান্ত্রিক ভাবে যারা ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন তারা সঠিক ভাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন কি না সে বিষয় গুলো দেখার দ্বায়য়িত্ব আমার । এছাড়া , গাজি পাড়া স্কুল তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র রায় বলেন , ওই শিক্ষক গাজি পাড়া স্কুলে আগে ছিল সেটা আমি জানতাম না । আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম শীঘ্রই বিষয়টির খোঁজ খবর নেওয়া হবে ।
অপরদিকে , এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশ্রাফুল ইসলামের ০১৭১৪৯০৮৩২৬ নং মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।

Loading