২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৩
শিরোনাম:

উভয় সংকটে বছরে নষ্ট হচ্ছেঅর্ধকোটি টাকার সবজী !

নইন আবু নাঈম বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দীপচর গ্রামে দু, শতাধিক বিঘা জমিতে বছর জুড়ে চার ধাপে নানা জাতের সবজির চাষ হয়। তাই গ্রামটি সবজির গ্রাম হিসেবে পরিচিত । কিন্তু সেচ সুবিধার জন্য পাশে খাল থাকলেও তা ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া খালের উভয় দিকে বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীরা আটকে দেয়ায় পানি নিঃস্কাশন হচ্ছে না । ফলে বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতায় সবজি ক্ষেত পঁচে যায় এবং শুস্ক মৌসুমে পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার কারনে উভয় সংকটের মধ্যে পড়েছে ওই গ্রামের চাষীরা । যার ফলে গত বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ইতোমধ্যে একটি আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন সুরাহা না হওয়ায় চলতি বছরেও হতাশ হয়ে উঠেছেন তারা ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কি.মি. দুরে গ্রামটির অবস্থান। খালে ঘেরা চারদিক মাঝখানে সবজি ক্ষেত। এতে ওই গ্রামের প্রায়শত পরিবার বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। দেশীয় নানা জাতের সবজিই এখন তাদের আয়ের প্রধান উৎস । বছর জুড়ে সবজির চাষ করে কেউ আবার লাখপতি হয়েছেন। চাষী দুলাল সওদাগর বলেন, গত বছর ফুলকপি, বাঁধা কপি ও বিট বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। আব্দুর রব সওদাগর বলেন, সবজির সাথে বাঙ্গী ও তরমুজের চাষ শুরু করে সফল হলে তার দেখাদেখি সওদাগর, তালুকদার ও খান বংশের কৃষকরা চাষে ঝুকে পড়েন। এক পর্যায়ে দ্বীপচরে কৃষি আবাদের প্রতিযোগীতা শুরু হয়। ধান চাষের পরিবর্তে আমরা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বিটকপি, পুঁইশাক, ডাটা শাক, কলমি শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, আলু, চাল কুমড়া, বরবটি, করলা, শিম, চিচিংগা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের আবাদ
শুরু করি।

এছাড়া মোস্তফা সওদাগর, দুলাল সওদাগর, মনিরুজ্জামান সওদাগর বলেন, সবজি ক্ষেতে বছর জুড়ে (৪বার) ১৪/১৫ রকমের সবজি উৎপাদন করি। যা এলকার বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ও পাশর্^বর্তী উপজেলা এবং জেলায় রপ্তানি করা হয়। কিন্তু সরকারী খাল প্রভাবশালীরা ভরাট করায় পানি ওঠানামা করতে পারছে না এবং ফাল্গুন চৈত্র মাসে খালটি সম্পুর্ন শুকিয়ে যায়। একদিকে পানির অভাব অন্যদিকে বর্ষায় জলাবদ্বতায়
সৃষ্টি হয় তাই প্রতি বছর আমাদের লাখ লাখ টাকার সবজি শুকিয়ে ও পানিতে পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে আমরা সবজি গ্রামের চাষীরা পথে বসে যাব । এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমাদের পক্ষ থেকে মনিরুজ্জামান নামের এক চাষী আবেদন করেছেন। কিন্তু এ পর্যুন্ত কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, খালটি খনন করা খুবই প্রয়োজন। অর্থের অভাবে খনন হচ্ছে না । তবে ,উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, খাল খননের ব্যাপারে আবেদন পাওয়া গেছে। চাষীদের এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Loading