৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৩১
শিরোনাম:

জরুরি প্রয়োজনে বাহিরে বের হওয়া লোকজনকে নির্যাতন করা ফৌজদারি অপরাধ

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বলা হয়েছে বিনা প্রয়োজনে বাহিরে বের না হতে। তবে একান্ত প্রয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান খোলা রাখা যাবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতিউৎসাহি সদস্য লোকজনকে বাহিরে পাওয়া মাত্রই লাঠিপেটা ও কান ধরে ওঠবস করাচ্ছে। অনেক রিক্সা চালককেও নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। যশোরের মনিরামপুরের সহকারি কমিশনার তিনজন বৃদ্ধকে কান ধরে দাঁড় করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। পরিস্থিতি অনুযায়ী জনসাধারণকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ঘরে থাকা উচিৎ। তবে প্রয়োজনে কেউ বাহিরে গেলে তাকে বুঝিয়ে দ্রুত বাড়ি পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু কান ধরে দাঁড় করানো বা লাঠি-পেটা বাড়াবাড়ি। এসব পরিহার করা উচিৎ।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, সংবিধানে বলা আছে কাউকে অপমানজনক সাজা দেয়া যাবে না। কোন ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধ করছে মনে করলে তাকে আটকানো যাবে। এছাড়া কাউকে জোর করে আটক বা নির্যাতন করা যাবে না। কাউকে অযথা লাঠিপেটা বা কান ধরে ওঠবস করানো নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ আইন-২০১৩) আইনে ফৌজদারি অপরাধ। এ আইন অনুযায়ী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করা যাবে।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার বলেন, সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে বেদনাদায়ক বা লাঞ্ছনাকর সাজা দেয়া যাবে না। লাঠি পেটা, কান ধরে ওঠবস করানো বা কোন ধরনের বাড়াবাড়ি ক্ষমতা বহির্ভূত। যদি কেউ হয়রানীর শিকার হন তিনি প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। দেশের এই সময়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে সহিষ্ণু ও পেশাদার আচরণ করার অনুরোধ করেন তিনি।

এছাড়া ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, অতিউৎসাহি কিছু কর্মকর্তা কাউকে আইনের আওতায় না এনে নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

Loading