২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৬
শিরোনাম:

কলাপাড়ায় সূর্যমুখী চাষেআগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :  পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রবিশষ্যের চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ।
সূর্যমুখী’র চাষাবাদে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রনোদনা দেয়ায় স্বচ্ছলতা অর্জনে চাষাবাদে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। উপকূলীয় এ অঞ্চলের মাটির গুনাগুন, অবহাওয়া ও জলবায়ু সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী হওয়ায় এটির চাষাবাদ কৃষকের কাছে লাভজনক হয়ে উঠছে। এছাড়া রাজস্ব খাতের প্রকল্পের অধীন কৃষকের সূর্যমুখী প্রদর্শনী মাঠ স্থাপন করায় আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনে বেকার যুবরা সূর্যমুখী চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী একটি তেল ফসল। এটি স্থানীয় ভাবে উচ্চ মূল্যের ফসল হিসেবেও পরিচিত। ভোজ্য তেলের মধ্যে সূর্যমুখী শরীরের জন্য অত্যন্ত ভাল তেল। এটি শরীরের কোলষ্টোরেল ঠিক রাখে। তাই সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে সরকার রবিশষ্যের প্রনোদনার আওতায় কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরন করছে। এ উপজেলায় এবছর ৫০ হেক্টর জমি সূর্যমুখী চাষাবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ৮০ হেক্টর। প্রতি ইউনিয়নে কম বেশী সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এবছর সূর্যমুখীর চাষাবাদে এগিয়ে রয়েছে নীলগঞ্জ, টিয়াখালী, লতাচাপলি ও কুয়াকাটা পৌরসভা। উপজেলায় এবছর অন্তত: প্রায় তিনশ কৃষক সূর্যমুখীর চাষাবাদ করেছে।

স্থানীয় সূর্যমুখী চাষীদেরসূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসের শুরুতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ হয়ে থাকে। সূর্যমুখী চাষাবাদের এ সময়টা এ অঞ্চলের জমি অনেকটা ফাঁকা থাকে। মার্চ এপ্রিলের মধ্যে ফসল কাটার উপযোগী হয়। উৎপাদিত ফসল কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ন্যায্য মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে মাঠ পর্যায় থেকে ক্রয়ের জন্য সহায়তা দিচ্ছে। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের যুবক গোলাম সরোয়ার বলেন, ’আমি এবছর ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয় ১৫শ’ টাকা, সেচ খরচ ৬শ’ টাকা, আগাছা নিধন, নিরানী ও বেড তৈরী খরচ ২৪শ’ টাকা এবং বালাই নাশক প্রয়োগ ২শ’ টাকা সহ মোট খরচ হয় ৪ হাজার ৭শ’ টাকা। অপর মার্টিন বৈরাগী বলেন, ’এবছর আমি তিন
বিঘা জমিতে প্রথমবারের মত সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষনিক পরামর্শ সহ বীজ ও সার পেয়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ’সূর্যমুখী একটি উচ্চমূল্যের তেল ফসল। এ অঞ্চলের মাটির মাঝারি ধরনের লবনাক্ততা, আবহাওয়া ও জলবায়ু সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। তাই কৃষককে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করার জন্য সরকার প্রনোদনা দিচ্ছে। এবছর অন্তত: ৩শ’ কৃষক সূর্যমুখীর চাষাবাদ করেছে।

Loading