নইন আবু নাঈমঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় এনজিও কর্মকর্তাসহ তার দুই সহযোগীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মারুফা বেগম(২২) নামের গৃহবধু। (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মোস্তফা তালুকদারের মালিকানাধীন একটি আবাসিক বহুতল ভবনে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। মুমুর্ষ অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যায় ওই গৃহবধুকে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তার পরিবার। নির্যাতিত গৃহবধু উপজেলার দক্ষিন আমড়াগাছিয়া গ্রামের জিহাদুল ইসলাম ছাব্বিরের স্ত্রী। গৃহবধু মারুফা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে এনজিও জোয়ারের কর্মকর্তা আঃ রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমি একটি অভিযোগ দায়ের করায় ওই ঘটনার জেরে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) জোয়ারের পরিচালক আঃ রহমান আকাশ ও তার সহযোগী আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী সোহাগ মৃধার স্ত্রী সুমি বেগম(২৫) ও দক্ষিন তাফালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তূষার মিস্ত্রীর মেয়ে সূবর্না মিস্ত্রী(৩০) শুক্রবার দুপুরে আমার বাড়ির মালিকের ছেলের সহয়তায় নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। ওই সময় তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে আকাশের সহযোগী সুমি বাক-বিতান্ডা শুরু করেন। এতে তিনি প্রতিবাদ করলে এনজিও কর্তা আকাশের নের্তৃত্বে একজোট হয়ে লোহার রড় দিয়ে আমাকে পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আমাকে প্রানে রক্ষা করেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!তিনি আরো জানান, ওই এনজিওতে কিছু উন্নয়ন কর্মী নিয়োগ করা হবে। এমন খবরে গত ৫ মাস আগে আমি আবেদন করে চাকুরি পাই। শুরু থেকে ওই এনজিও পরিচালক এলাকার কিছু যুবতী মেয়েদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। তার এ সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় ৩ মাস পর ওই কর্মকর্তা আমাকে সহ ৪ জনকে কোন বেতন-ভাতা না দিয়েই চাকরীচ্যুত করেন। এছাড়া তার রোষানলে পড়ে চাকুরি হারিয়েছেন একই উপজেলার চাল রায়েন্দা গ্রামের বিশ^জিতের স্ত্রী জোসনা রানী এবং ভাড়ানীর পাড় এলাকার খলিলুর রহমান এর ছেলে আসাদুল ইসলাম সহ আরো অনেকে এবং ওই কর্মকর্তার নিজের বানানো কিছু ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এনজিওর নীতিমালা বহির্ভূত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ওই গৃহবধু অভিযোটি পেয়েছিলাম কিনা তা পুনঃরায় দেখতে হবে। এছাড়া তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকলে তিনি থানা পুলিশের সহয়তা নিতে পারেন। শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল-সাইদ জানান, মারামারির ঘমটনা শুনেছি। ওই গৃহবধুর অভিযোগ পেয়েছি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, এনজি কর্মকর্তা আঃ রহমান আকাশ দাবি করেন, আমি কাউকে মারিনি সুমি মারুফার মাথায় আঘাত করায় তার ফেঁটে গেছে ।
![]()