২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৪৭
শিরোনাম:

শরনখোলায় শিক্ষকের প্রতারনায় ফেঁসেছেন দপ্তরী!

নইন আবু নাঈমট বাগেরহাটের শরনখোলায় প্রধান শিক্ষকের প্রতারনায় এক স্কুল দপ্তরী ফেঁসেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে । ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আঃ ছালাম হাওলাদারের ছেলে ও ১নং-খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী/নৈশ প্রহরী মোঃ সোহাগ হাওলাদার তার অভিযোগে বলেন ,পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ধান সাগর এলাকার বাসিন্দা মৃ,মোহাম্মদ আলী শরীফের ছেলে এবং খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সাবেক) প্রধান শিক্ষক শরীফ ফিরোজ-অর-রশিদ তার নিকট আত্মীয়। এছাড়া তিনি ওই স্কুল থেকে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহন করেন । ২০১৫ সালে একই স্কুলে সোহাগের চাকুরী হওয়ার সময় তিনি তার পক্ষে জোর তপদ্বীর করেন । তাই সোহাগ চাকুরী পাওয়ার পর তার বেতন-ভাতা উত্তোলনের চেক বইটি শিক্ষক ফিরোজ অর- রশিদ তার কাছে নিয়ে রাখেন এবং বেতন উত্তোলনের জন্য তিনি সোহাগের কাছ থেকে চেক বইটি স্বাক্ষর করিয়ে নেয় ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পরবর্তীতে, চেক বইটি সোহাগ ফেরত চাইলে তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় ওই শিক্ষক । এ ঘটনায় সোহাগ ২০১৭, সালে শরনখোলা থানায় একটি জিড়ি করেন। সোহাগ আরো বলেন ,আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ফিরোজ মাষ্টার ওই চেকের একটি পাতা ব্যাবহার করে আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ফাঁকা চেকে ১৫,লাখ টাকা লিখে ২০১৯, সালের ১৩,নভেম্বর আমার বিরুদ্বে গোপনে ঢাকার সি এম এম আদালতে চেক জালিয়াতির একটি মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেন । যার নং- সি -আর -৩৩১/২০১৯। বিনা দোষে উক্ত মামলায় আমি হাজতে যাই এবং সম্প্রতি জামিনে বাড়িতে আসি। এছাড়া ওই শিক্ষকের ঠিকানা শরনখোলা হলেও মামলার আর্জিতে তিনি ঢাকার খিলতের বাসিন্দা দেখিয়েছেন । এ মনকি ইটালী যাওয়ার জন্য তিনি আমাকে কোন প্রকার ডকুমেন্ট ছাড়া নগদ ১৫ লাখ টাকা ধার দেন বলে সাজানো ওই মামলায় উল্লেখ করেন শিক্ষক ফিরোজ অর-রশিদ ।

এ ব্যাপারে , উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মো ঃ আলমগীর হোসেন বলেন , দপ্তরী সোহাগের চাকুরীর জন্য ওই প্রধান শিক্ষক কিছু টাকা ধার দিলেও তা ইতোমমধ্যে প্রায় পরিশোধ করেছেন বলে আমি জানি। যেহেতু পরস্পর নিকট আতœীয় সেক্ষেত্রে ফিরোজ স্যারের এ মামলাটা করা উচিত হয়নি। বিষয়টি আমাদের সমিতির সদস্যদের মাধ্যমে ফয়সালা করা যেত । স্থানীয় খেজুর বাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ নাছির উদ্দিন হাওলাদার সহ অনেকে বলেন, ফিরোজ স্যার ২০০৮ সালে (অবসরে) গেছেন । সে হঠাৎ করে এতগুলো টাকা কোথায় পেলেন? এবং কোন প্রকার ডকুমেন্ট ছাড়া কোন স্বার্থে ওই দরিদ্র পরিবারটিকে ১৫লাখ টাকা এলাকার গন্যমান্য কাউকে না জানিয়ে ধার দিলেন ।

বিষয়টির মধ্যে নিশ্চয়ই কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ হাসান হাওলাদার বলেন, উভয় পরিবারের মধ্যে ফাঁটল সৃষ্টি করতে ফিরোজ স্যারকে কেউ এমন কু-পরামর্শ দিয়েছেন। তবে , শিক্ষক শরীফ ফিরোজ অর-রশিদ বলেন , আমি কাউকে ফাঁসানোর জন্য মামলা করিনি । পাওনা টাকা আদায়ের ব্যাপারে আইনের আশ্রয় গ্রহন করেছি । বিষয়টি মিথ্যা কিংম্বা রহস্য জনক হয়ে থাকলে তারাও আমার বিরুদ্বে আইনী পদক্ষেপ নিতে পারেন । আদালত যে ফাঁয়সালা দিবেন আমি তা মেনে নিব ।

Loading