জরুরি সার্ভিস ছাড়া ঈদের দিনসহ আগে-পরে ৭ দিন কোনে যানবাহন চলবে না। এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ছে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত। বুধবার সন্ধ্যায় ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী ছুটি বাড়ানোর পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন। বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার ছুটি বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই আদেশ জারি করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এতে আগামী ১৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করা হবে। যানবাহন চলাচলের বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ঈদের আগে ৪দিন ও ঈদের পর ২ দিন কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না এমন শর্ত দেয়া হবে । তবে বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি সার্ভিস চলাচল করতে পারবে।
ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২১ মে শবে কদরের ছুটি রয়েছে, ২২মে এবং ২৩মে সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটি রয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি-বেসরকারি অফিস সমূহ প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়।পরবর্তীতে তা কয়েক ধাপে ১৭ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রার ওপর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য বলছে, গত তিন দিনে এই ভাইরাসের সংক্রমণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ছিল বেশি। এই তিন দিনে মোট তিন হাজার ১৬৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ শনাক্ত ছিল সবচেয়ে বেশি— এক হাজার ১৬২ জন। শুধু তাই নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মারা গেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
সূত্র বলছে, এখনই অফিস না খোলার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ছুটি আরেক দফা বাড়বে, যেটি হবে ষষ্ঠবারের মতো সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো। সেক্ষেত্রে ঈদুল ফিতরের ছুটিসহ এই ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়তে পারে।
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণ ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সূত্র জানায়, নতুন করে ছুটি বাড়ানোর সেই সিদ্ধান্ত এলে ছুটির মধ্যে যেসব বিধিনিষেধ থাকবে, সেগুলো নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর আগে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রথমবার ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ওই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ ছুটি আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের নির্বাহী আদেশের ছুটিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়।
এর মধ্যেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ১৫ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২৪ ও ২৫ এপ্রিল যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই দুই দিনকেও সংযুক্ত করা হয় সাধারণ ছুটির সঙ্গে। সে হিসাবে ২৫ এপ্রিল শেষ হতো এ আগের ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ। পরে ২৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরেক প্রজ্ঞাপনে ৫ মে পর্যন্ত এই ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
নতুন করে ১১ দিন ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব এখন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়ে গেলে কাল-পরশু প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
সবশেষ গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার এক আদেশে ছুটি বাড়াতে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়, ১১ দিন বাড়িয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন মিলিয়ে ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির মেয়াদ কার্যকর থাকবে।
![]()