৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫৫
শিরোনাম:

সদকাতুল ফিতর: মুমিনের ওপর অবশ্য কর্তব্য

দেখতে দেখতেই শেষ হতে চলেছে পবিত্র মাহে রামাজান। বরকতময় সাহরী ও আনন্দময় ইফতারী এ বছরের মতো বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ৷ পূণ্যের বসন্তকালে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে মুমিনের হৃদয় সরল হিসাব কষছে৷ জীবন থেকে আরও একটি বারাকাত ও ফাযায়েলের মাসের বিদায় জানাতে মুমিনের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে৷

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সামনে আসছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মিয় উৎসব ‘ঈদুল ফিতর’৷ দীর্ঘ একমাস মুমিনদের ওপর মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক ফরজ বিধান রোজা পালনের পর পশ্চিমাকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা দেয়ার প্রথম দিনটিই হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর৷ একমাস রোজা পালনের পর মহান মালিকের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে প্রত্যক মুনিনের উপর ‘সদকায়ে ফিতর’ এবং ‘ঈদুল ফিতর’ এর নামাজ আদায় অত্যাবশ্যক৷

সাদাকাতুল ফিতর দুটি শব্দযোগে আরবী যৌগিক শব্দ ৷ সদকা অর্থ- দান,খায়রাত, ফিতর অর্থ- ইফতার করা, রোযা খোলা, রোযা ভঙ্গকরা ৷ পূর্ণার্থ দাড়ায় রোযা খোলার সাদকা বা দান ৷ সদকায়ে ফিতর এমন এক সদকা যা রামাদানুল মুবারকের রোযার শেষে ঈদের দিন সুবহে সাদিক হওয়ার পর প্রত্যেক সামার্থবান মুমিনের ওপর ওয়াজিব হয় ৷ এটা গরীব মুসলমানের জন্য। তো এই গরীব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করাটা হচ্ছে, গরীবদের জন্য সদকাতুল ফিতর- এর মূল উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয় ৷ (সূরা আ’লা,আয়াত ১৪)। কোন কোন মুফাসসিরীনে কিরাম এ আয়াতে ‘পরিশুদ্ধ’ দ্বারা সাদাক্বায়ে ফিতর উদ্দেশ্য নিয়েছেন ৷ অর্থাৎ যিনি সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন তিনি সাফল্য লাভ করবেন ৷

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ‘সা’ খেজুর, অথবা এক ‘সা’ গম যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন এবং নামাযের পূর্বে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

নারী-পুরুষ, শিশু, আবাল, বৃদ্ধ , বনিতা , স্বাধীন , পরাধীন, এমনকি হিজড়া সম্প্রদায়সহ সকল সামার্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব ৷ সদকায়ে ফিতর নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানদের পক্ষ হতে আদায় করবে, যদি তারা নিসাবের মালিক না হয়। আর তারা নিসাবের মালিক হলে তাদের মাল থেকেই সদকাতুল ফিতর আদায় করবে। বালেগ সন্তান পাগল হলে পিতার পক্ষ থেকে দেয়া ওয়াজিব ৷

ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পর সর্বশ্রেণীর প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুমিনের ওপর সদাকয়ে ফিতর ওয়াজিব হয় ৷ সদকায়ে ফিতর ঈদের সালাত পালনের পুর্বে আদায় করা সর্বোত্তম ৷ তবে আগেও আদায় করাতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরং এক বিবেচনায় আগে আদায় করা উত্তম হতে পারে যাতে প্রাপ্য ব্যক্তিরা ঈদের কেনাকাটায় ব্যয় করতে পারে ৷ ঈদের সালাতের পরেও আদায় করা জায়েয় আছে তবে অনুত্তম ৷

Loading