২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১২
শিরোনাম:

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজদের উপর বুলডোজার চালাতে হবে: ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, করোনা পুষে রেখে অর্থনীতি সচল হবে না, দুর্নীতি পুষে রেখে করোনা মোকাবেলা করা যাবে না। ক্যাসিনো বন্ধে যেভাবে বুলডোজার চালানো হয়েছিল ঠিক তেমনভাবে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিবাজদের উপর বুলডোজার চালাতে হবে। এসময় তিনি স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও ভয়ঙ্কর দুর্নীতি দূর করার দাবি জানান।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ-সংক্রমণরোগ বিশেষজ্ঞ-ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে লাল-হলুদ-সবুজ জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা এবং প্রধানমমন্ত্রীকে নিয়মিত রিপোর্টের ব্যবস্থার দাবিও জানান তিনি।

ইনু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ১ লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা আর করোনা মোকাবেলায় বাজেটে ১০হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব, এডিবির প্রকল্প বাদ রেখে হিসাব করলে বাজেট দেখে মনে হয় দেশে ও দুনিয়ায় করোনা বলে কিছু নাই।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থ-বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাজেটে বরাদ্দ খাতের অগ্রাধিকার সঠিকভাবে নির্ণয় করা হলেও গতবারের তুলনায় বৃদ্ধির পরিমাণ ও হার খুবই গতানুগতিক, ছঁকেবাধা নিয়ম মাফিক বৃদ্ধি। তিনি সর্বজনীন জনস্বাস্থসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ছকের বাইরে গিয়ে বাজেটে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, করোনার অভিঘাতে নতুন করে যারা কর্মহীন হয়ে গ্রামে ফিরবে, যে প্রবাসীরা দেশে ফিরবে, শ্রম বাজারে নতুন করে যে ২৬ লাখ যুবক প্রবেশ করবে তাদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। কৃষি-মৎস্য-পোল্ট্রি-প্রাণী সম্পদ খাত সংকটে অর্থনীতিকে যে শক্তি দেয় সেই কৃষি ও কৃষির উপখাত, কৃষক ও খামারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।

ইনু বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে আয় ও অর্থসংস্থান নিয়ে এখন চিন্তা করার সময় না। ঋণ করতে যখন হচ্ছেই তখন একটু বেশি ঋণ করলে ক্ষতি নাই। ঋণ করে আমরা ঘি খাচ্ছি না। বিদেশে, সেকেন্ড হোমে, বেগমপল্লীতে পাচারও করছি না। স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যয়কে ব্যয় হিসাবে হিসাব না করে বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে এসব খাত মূলধন ফেরত দেয়াসহ বহুগুণ লাভ জাতিকে ফিরিয়ে দিবে।

ইনু আরও বলেন, করোনা ধনী-গরীব সবাইকে সমান করে দিয়েছে। করোনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সমাজতন্ত্রের পথে হাঁটতে হবে। সমাজতন্ত্রের আলোকে সর্বজনীন জনস্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

Loading