৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:২৯
শিরোনাম:

এস,এ,রব : করোনা গেলেই ফেরত দিতে হবে নগদ সহায়তার অর্থ

ফ্রী লাঞ্চ বা মাগনা খাওয়া বলতে কিছু নেই, এমনকি করোনা ভাইরাসের এই ভয়াল দিনেও!
করোনা ভাইরাস আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিকে অবরূদ্ধ করে ফেলার পর থেকে এ দেশের এক মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থসহায়তা পেয়ে আসছে। করোনার আঘাতে যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা পাচ্ছেন সপ্তাহে ৩৫০ ইউরো, যেখানে চাকরিপ্রার্থী অর্থাৎ বেকাররা পেয়ে থাকে সপ্তাহে ২০৩ ইউরো। অন্যরা তাদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সপ্তাহে ৪১০ ইউরো করে সাবসিডি বা ভর্তুকি পাচ্ছে।
একদিকে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, অন্যদিকে এমন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে এ আর্থিক সহায়তাটুকু কাজ করছে লাইফলাইনের মতো। চলমান ‘বিশেষ সময়’ সম্বন্ধে সচেতন থেকে জনগণকে কিছুটা হলেও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে দ্রূত তৎপর হয়েছে রাষ্ট্র। তবে এ তৎপরতার কিছু অনিবার্য প্রতিক্রিয়া আছে, যা থেকে কিছু অনিয়মেরও সৃষ্টি হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে যারা ওয়েলফেয়ার পেমেন্ট পান, তাদের বেশিরভাগকেই ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। কিন্তু করোনা অতিমারীর কারণে চাকরি হারিয়ে যারা প্রথম বারের মতো বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে বাধ্য হলেন, তারা ইনকাম ট্যাক্সের বিষয়টি জানেনই না। তাদের ধারণা, ওয়েলফেয়ার পেমেন্টে কোনো ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয় না।
যারা সাময়িকভাবে ওয়েজ সাবসিডি পাচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গোলমেলে। তারা এ সাবসিডি পেয়েছেন তাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। সাধারণ বেতন দেয়ার বেলায় যেভাবে উৎসে কর কেটে নেয়া হয়, সাবসিডিতে তা করা হয়নি। এ নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে যে কে বা কারা এই কর পরিশোধ করবে। আরও জটিলতা হলো যে, নিয়োগকর্তার দিক থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ এলে তার কর নিয়োগকর্তাকেই উৎসে পরিশোধ করতে হয়।
আশা করা হচ্ছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে, করোনা থাকবে না। কিন্তু ট্যাক্সের দিক বিচার করলে করোনা তখনও বহু লোককে তাড়া করে ফিরবে। কারণ, এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ, যারা করোনাকালে নগদ অর্থসহায়তা পেয়েছেন, তারা রেভিনিউ কমিশনারের কাছে ঋণী হয়ে থাকবেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর এসব মানুষের কাছে ডাকযোগে পৌঁছে দুঃসংবাদবাহী ব্যালান্সিং স্টেটমেন্ট। পাওনা হিসেবে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণও একেবারে কম হবে না। কোনো-কোনো ক্ষেত্রে তা কয়েক হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
এ পাওনা কিভাবে আদায় করা যেতে পারে, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী ২০২১ সাল, এমনকি ২০২২ সাল পর্যন্ত বিল পাঠানোর কাজ চলতে পারে। যদি তা-ই হয়, তাহলে অনেকের জন্য তা নতুন ঝামেলা নিয়ে আসবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, অনিশ্চয়তা তো কাটছেই না, বরং সামনে অপেক্ষা করছে আরও উদ্বেগ।

Loading

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!