২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:১৯
শিরোনাম:

চুয়াডাঙ্গায় চলতি বছর ১৫শ হেক্টর জমিতে আমন জাতের মুখি কচুর চাষ : ফলনআর দামে চাষিরা খুশি হলেও কিনে দুঃশ্চিন্তায় ব্যাপারী

মনিরুজ্জামান সুমন,চুয়াডাঙ্গা:  চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের থেকে চলতি বছর ১২৫ হেক্টর জমিতে বেশি মুখি কচুর চাষ চাষ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে কচুচাষিরা বেশ খুশিই হয়েছে। বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখেছে। তবে প্রতিযোগিতার বাজারে প্রতিযোগি করে কচু কিনে অনেক ব্যাপারী দু‘শ্চিন্তায় আছে। যদিও চাসিদের কাছ থেকে দামদর করে কচু নিয়ে ব্যাপারীরা কিছু করে টাকা বায়না দিয়ে রেখেছে। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে চাষিরা ষোলআনা টাকা হাতে পাবে। আর লোকশান হলে চুক্তি মূল্যের কথা ঠিক রাখতে পারবে নাব্যাপারী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জেলা কৃষিসম্প্রাসারণ সূত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট জমির পরিমান ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর। চলতি বছর চাষিরা ভুট্রার আবাদে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও ধানচাষে লাভবান হয়েছে। খাদ্য সশ্য ও অর্থকারি ফসলের পাশাপাশি জেলার চাষিরা নানা ধরণের সবজির চাষ করে থাকে। সকজি চাষে জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। তারি ধারাবাহিকতায় এ বছর জেলাতে চলতি মোরসুমে আমন জাতের মুখি কচুর চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন। গত বছর কচুচাষ হয়েছিলো ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। আর কচু উৎপাদন হয়েছিলো ২৮ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। এবছর বিঘা প্রতি মুখি কচুর ফলন হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মন। চাষিরা এক বিঘা জমি পাইকারী বিক্রি করছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে। জমি চাষ, বীজ পরিচর্জাসহ মোট খরচ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা হয়ে থাকে। ফলে বিঘাপতি লাভ হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমান মুখি কচু পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি। আর খুচরা এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। আর কচুর পাইকারী বাজার গড়ে উঠেছে খুলনা, ঢাকা, চিটাগাং, ফরিদপুর ও মাগুরাতে। গত বছর চাষিরা কচুচাষ করে লাভবান হওয়ায় চলতি বছর ১২৫ হেক্টর জমিতে বেশি কচুর চাষ হয়েছে। শুধু কচুর ছড়াই না মুখিগুলো ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় এ বছর কচুচাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। এ বছর যারা কচু চাষ করেছেন তারা বেশ লাভবান হচ্ছে। ধান চাষের চেয়ে প্রায় ৫গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা মুখি জাতের কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

চাষি বকুল হোসেন, জাকির, ছলেমান, লালমিয়া, ফজলু, দিদার, রহমান, মালেকসহ অনেকেই বলেন, তুলনা কম খরচে আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষী কচুর চাষ করছেন। কচু চাষ মূলত পয়লা ফালগুনে রোপন হয়ে থাকে। তিন মাসের মাথায় অর্থাৎ আষাঢ় মাস থেকে বেচা বিক্রি শুরু হয়। আর এ বেচা বিক্রি চলে আষাঢ়, শ্রাবন, ভাদ্র ও আশি^ন মাষের শেষ পর্যন্ত। কচুর ব্যাপারী ফুরশেদপুর গ্রামের বকুল হোসেন বলেন, এবছর প্রায় ৭০ বিঘা কচু বায়না দিয়ে কিনেছি। চাষিরা তো দাম পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব দুঃশ্চিন্তায় আছি। একদিকে করোনা অপর দিকে অতিবৃষ্টি। না জানি ভাগ্যে কি আছে। যদি বাজার দর না পায় তাহলে ব্যাপারীদের পাশাপাশি চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ চাষিদের সাথে দামাদরের সব টকা পরিষোধ করা হয়নি।

Loading