মনিরুজ্জামান সুমন,চুয়াডাঙ্গা: করোনার প্রাদুর্ভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ১৩০ টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে আছে। এ সব স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা স্কুল বন্ধ থাকার কারণে বেতন না পেয়ে চরম অর্থ সংকটে পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ইতো মধ্যে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এক্য পরিষদ (বিকপ) এর মাধ্যমে মাসিক ভাতা হিসেবে প্রণোদনা চেয়ে মাননীয় প্রধান মণ্্রীর বরাবর স্বারক লিপি পেশ করছেন। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের
দামুড়হুদা উপজেলা সভাপতি এবং রোজ কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক মোঃ জহুলুল ইসলাম বলেন, জেলায় প্রায় ১৩০ টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। করোনা ভাইরাস রোধে ১৮ মার্চ থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ যাবত পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১শ ৪০জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বেতনের উপরই এসব প্রতিষ্ঠান নির্ভরশীল । স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ও সম্ভব হচ্ছে না। ১১জন শিক্ষক- কর্মচারীর প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পরিশোধ করতে হয়। মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্ডারগার্টেনের মালিকরাও অর্থসংকটে পড়ে শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন, বাড়িভাড়া বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেন না। করোনার দুর্যোগকালে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই স্কুল বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক ভাতা হিসেবে প্রণোদনা , রেশনের ব্যবস্থা, স্কুল ভবনের ভাড়া মওকুফ ও স্বল্পসূদে ঋণে প্রদানের দাবি
জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্্রীর নিকট স্বারক লিপি প্রদান করা হয়েছে ।
আসছে ১১ জুলাই আমাদের দাবীর সমার্থনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাননীয় প্রদান প্রধানমণ্্রীর
নিকট স্বারক লিপি প্রদান করা হবে ।
কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অপর সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এ্রাসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতিও দর্শনা অংকুর আদর্শ বিদ্যালয়ের( কেজি) প্রিন্সিপাল হাজী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের ২১ জন শিক্ষক কর্মচারী রযেছেন । প্রতিমাসে তাদের বেতন প্রায় ১লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় । এসব স্কুলে কর্মরত শিক্ষকরা বর্তমানে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে গেছে। আয় উপার্জন বন্ধ থাকায় তারা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল বেশির ভাগই ভাড়া বাসায় প্রতিষ্ঠিত। যারা স্কুলগুলো পরিচালনা করেন তারাও বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এসব কিন্ডার গার্টেন স্কুল টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি সকল শিক্ষক কর্মচারীর বায়োডাটা সংগ্রহ করেছেন । এখন পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি ।
নিউ লাইফ এডুকেশন ষ্ট্রেট প্রি-ক্যাডেট প্রতিষ্ঠানের মওলানা আব্দুস সাওার ও মায়া প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সহ প্রায় স্কুলের মালিকরা উপরোক্ত একই কথা তুলে ধরেন । এ বিষয় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দিলারা রহমান জানান আপাতত সরকারি সাহায্য বন্ধ থাকায় কোন সহযোগিতায় আসতে পারছিনা,তবে আমার কাছে স্বারক লিপি দিলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেবো।
![]()