৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০০
শিরোনাম:

চঞ্চল চৌধুরী : আহা! আমাদের এন্ড্রু দা

চঞ্চল চৌধুরী : অনেক বছর আগে আমেরিকায়, ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড উপলক্ষে সেটা ছিলো আমার প্রথম আমেরিকা সফর। বাংলাদেশের তিনজন মহাগুণী সংগীতশিল্পী এনড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ এবং আইয়ুব বাচ্চু একসাথে সে বছর ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আলোকিত করেছিলেন। আমরা একই হোটেলে থাকতাম। অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম, উনারা তিনজনই আমাকে অত্যধিক পছন্দ ও স্নেহ করেন। এন্ড্রু দা তো রীতিমতো আমাকে স্টুডিওতে নিয়ে গিয়ে নিজে গান প্র্যাকটিস করালেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আমি বলেছিলাম ‘দাদা, আমাকে ক্ষমা করে দেন, আপনাদের সামনে মঞ্চে গান গাইবার সাহস আমার নেই’ এন্ড্রুদার উত্তর’ একদম চুপ, তুই গাইবি। নে প্র্যাকটিস কর’ অনুষ্ঠান শেষ হলো। কোন মতো সাহস করে বেঁচে গেলাম। রাতে রুমে ফোন দিয়ে দাদা বললেন, ‘কই তুই? আয় আড্ডা দিই’ রাতভর আড্ডা, বাচ্চু ভাই, এন্ড্রু দা, বিশ্বজিৎ দা, আসিফ আকবর ব্রো, ফেরদৌস ভাই, আরো কয়েকজন। দাদার চলে যাবার খবর শোনার পর থেকে, কি লিখবো কিছুই মাথায় আসছিলো না। হাজার হলেও আমাদের প্রানের মানুষ তো, প্রাণের শিল্পী তো এন্ড্রু দা।

সেই স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেঁসে উঠলো, সবই স্মৃতি হয়ে গেলো। তারপর অনেক অনুষ্ঠানে দাদার সাথে দেখা হয়েছে, আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছেন। আর আমি আস্তে করে বলেছি, ‘দাদা, ওই রকম একটা আড্ডা আবার হয় না?’ দাদা মুচকি হেসে বলতেন, ‘টাইম ম্যানেজ কর, একদিন বসি’ আর কোনদিন বসা হলো না, টাইমও ম্যানেজ হলো না কারো। এন্ড্রুদা সময়ের উর্ধ্বে চলে গেলেন, অবনত শ্রদ্ধা দাদা। সময় আপনাকে অন্য কোথাও নিয়ে গেলেও আপনি আমাদের মাঝে মানুষ হিসেবে, শিল্পী হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন।

Loading