২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩২
শিরোনাম:

পৌরসভার সচিব আবু সাইদের সহযোগিতায় অপকর্ম করতেন মেয়র রুকন

মাসুদুর রহমান :  ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে নব্য আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটতে শুরু করে। দলে একের পর এক অনুপ্রবেশ করতে থাকে জামায়াত ও বিএনপির বিতর্কিত নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সময়ে এদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে যোগদান করানো হয়েছে। বরণ করে নেওয়া হয়েছে একাত্তরের রাজাকার পরিবারের স্বজনদেরকেও। জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার বিএনপি থেকে  ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগে যোগদানের ৭ মাস পর পৌর নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। স্থান হয় সরিষাবাড়ী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে । মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পৌরসভার সচিব আবু সাইদের সহযোগিতায় হোল্ডিং টেক্স,পৌরসভা তহবিল হতে নামে বেনামে নানা খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছে কোটি কোটি টাকা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পৌর মেয়রের উপর পৌরসভা তহবিল, সরকারি বরাদ্দের টাকা, দরপত্র বিক্রির টাকা এবং সরিষাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মানের অর্থ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সরিষাবাড়ী শাখার মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষমতা পেয়ে সরকারি অর্থ উত্তলনের পর ঐগুলির উপযুক্ত পাওনাদারকে পরিশোধ না করেও ক্যাশ বহিতে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাত করে আসছেন।  পৌর মেয়র হওয়ার সুবাদে বাড়তে থাকে তার অন্যায়, অত্যাচার, অসদাচরণ, বিকৃত রুচি,, গালাগালি, পৌর অর্থ লুট, শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। নানাভাবে  একাধিক সুন্দুরী ললনাদের অর্থের লোভ, বিশ্রী কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গিতে যৌন নিপীড়ন করেন। এছাড়া অন্তরঙ্গ সময় দেয়ার বিনিময়ে ফেইসবুক মেসেন্জারে বিভিন্ন মেয়েকে অর্থ লোভ দেখায় মেয়র রুকন। পৌর মেয়র হলেও সেই দায়িত্বপূর্ণ পদ তার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারেনি। লোপ পায়নি চারিত্রিক নোংরামিও।

কাজ আছে মুজুরী আছে,কাজ নেই মুজুরী নাই ভিক্তিতে নিয়োগকৃত ৩৫ জন কর্মচারী কে নিয়োগ দিয়ে পরবর্তীতে ৩২ জন কে বাদ দেন পৌর মেয়র মোঃ রুকুনুজ্জামান। পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের ১৭টি প্যাকেজের এলটিএম পদ্ধতিতে এক কোটি ১৬ লাখ টাকার কাজ করেন। পূর্বের কাজের ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করে পিপিআর ২০০৬ ও ২০০৮ সংশোধিত নীতিমালা উপেক্ষা করে কোটেশনের মাধ্যমে এডিপির বরাদ্দের কাজ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়  মেয়র রুকন ও সচিব আবু সাইদ । মেয়র কিংবা সচিব কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না।প্রতিনিয়ত অফিস না করতে পারায় মেয়র রুকনের অহরহ দুর্ণীতি ও অপকর্ম এবং অর্থ লুটের প্রতিবাদ না করে সচিব আবু সাইদ ভাগভাটোয়ারা নিয়ে চুপ থাকতেন ।

এ নিয়ে নাগরিক ও কমিশনাররা বলাবলি করছে মেয়র এখন জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।  তিনি এখন ভাঙা কলসি।  আর ভাঙা কলসির আওয়াজ বেশিই হয়। কিন্তু ঠস ঠস।  অপরদিকে  ১ মে সকল কাউন্সীলররা মেয়র রুকনুজ্জামানকে অনাস্থা দিয়েছে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও কাউন্সীলররা অনাস্থা দেওয়ায় পৌর আওয়ামীলীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ।
অল্প সময়ের ব্যবধানে মেয়র রুকন ও সচিব আবু সাইদের অপরিমেয় জমি-জমা তথা বাড়ি গাড়ির মালিক হওয়ার বিশয়টিও তদন্ত করার জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া, ঠিকাদারির বিল ও বিদ্যুৎ বিল কোটি টাকার অধিক বকেয়া পরিশোধ না করে তথ্য গোপন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সাত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছিল মেয়র রুকন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এডিবির এক কোটি টাকার প্রকল্পের কোনো কাজই করা হয়নি। কিন্তু এই টাকার কোনো হদিস নাই। মেয়র কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না।সচিব সাহেব ঠিকমতো অফিস করেন না । তার এ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মেয়র যা ইচ্ছা তাই করেছে । দুজনে মিলেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। হয়তো মেয়র বেশি সচিব সাব ভাগা কম নিয়েছে।  আমরা সকল কাউন্সীলর তাকে অনাস্থা দিয়েছি। কথা হলে কাউন্সিলর সোহেল রানা বলেন, পৌর এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের নামে ছয় লাখ টাকার বেশি বিল ভাউচার দেখিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে গত বছরে। এ ছাড়া ফকির, গরিব-দুঃখী ও তার পছন্দের লোকদের যত টাকা দান করা হয়েছে তার সবই পৌরসভার অর্থ। অর্থ তছরুপের প্রমাণ পাওয়া যাবে চেক রেজিস্টারেই। কাউন্সীলর জহুরুল ইসলাম বলেন,  কাউকে আয় ব্যয়ের হিসাব দেখানো প্রয়োজন মনের করেন না মেয়র।

পৌর এলাকা ১২টি স্থানে রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের বসার জন্য গোলঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয় অথচ বিল ভাউচারের মাধ্যমে দুই লাখ ৮০ হাজার করে টাকা তুলে নিয়েছেন মেয়র রুকন। কাউন্সীলর আফসার উদ্দিন জানান, রুকন চোরার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে সাংবাদিক সহ নাগরিকরা । তাকে অনাস্থা দিয়েছি । পৌরসভা থেকে তিনি অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় প্রায় ২৫টি জিডি রয়েছে।  বিষয়টি প্রয়োজনীয় তদন্ত  স্বাপেক্ষে খতিয়ে দেখে তার বিরদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উর্দ্ধতন দায়ীত্বশীল মহলের প্রতি বহিষ্কারের  দাবি জানাই । কথা হলে কাউন্সীলর কালা চান বলেন, করোনা দুর্যোগের অর্থ ১ লক্ষ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৮ লক্ষ,গোরস্থানের উন্নয়নের নামে  ৫ লক্ষ ৪০ হাজার,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নামে ২২ লক্ষ, বন্যার মুড়ি চিড়া বিতরণের নামে ৭ লক্ষ , কোটি টাকা উৎকোচ করে ৭ টি নিয়োগ , সরিষাবাড়ী বাস স্ট্যান্ড এর উন্নয়নের ৫০ লক্ষ টাকাসহ নামে বেনামে ভুয়া বাউচার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। সকল কাউন্সীলর এক সাথে তাকে অনাস্থা দিয়েছি।

রুকন চোরাকে বহিষ্কারের দাবি জানাই । এ বিষয়ে সচিব আবু সাইদ জানান, অফিস ঠিক মতো  করা হয় না । তা ছাড়া কোথায় কি হয় , মাঠে কি হয় সেটা তো আমার খোজ রাখার কথা না। সব কিছু মেয়র সাহেবের নির্দেশে হয়েছে। এ বিষয়ে পৌর মেয়র রুকনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।

Loading