৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:২৫
শিরোনাম:

‘‘করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ তৈরি করতে আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে’’, রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে নিজের অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ডা. সাবরিনা বলেন, এখন ভুল বুঝতে পারছি, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। আমাকে যারা এ কাজে সহযোগিতা করেছে তারাও সমান অপরাধী। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হোক।’

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে জিজ্ঞাসাবাদে ডা. সাবরিনা এমন আরো অনেক কথা বলছেন। বিশেষ করে ডা. সাবরিনার মোবাইল কল লিস্ট ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। ডা. সাবরিনাকে গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করে দেখা গেছে, করোনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অনেক প্রভাবশালী লোকজন তাকে এ অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন। এসব তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডিবি সূত্র জানায়, ডা. সাবরিনা করোনা পরীক্ষার মতো একটি স্পর্শকাতর কাজ কোনো রকম বৈধতা ছাড়াই কিভাবে পেলেন, সেটাই তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, তিনি এ কাজ বাগিয়ে নিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লোকদের ব্যবহার করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক ডিবি কর্মকর্তা জানান, ডা. সাবরিনা সিনিয়র চিকিৎসক হওয়ায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটি বাগিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ডা. সাবরিনার ভালো সম্পর্ক থাকায় তিনি কাজটি পেয়ে থাকতে পারেন।

ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানায়, ডা. সাবরিনার ঘনিষ্ঠ ওভাল গ্রুপের আরো সাত পরিচালককে পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে। এই সাতজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  তদন্ত করে দেখা হবে, এই জালিয়াতির সঙ্গে আর কারা জড়িত। ওভাল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ওভাল কমিউনিকেশন লিমিটেড, ওভাল সিকিউরিটি প্রাইভেট লিমিটেড, ওভাল ফ্যাশনস লিমিটেড, ওভাল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড ও ওভাল করপোরেশন এবং জেকেজি। এর মধ্যে জেকেজি অবৈধভাবে হেলথকেয়ারের কাজ করে আসছিল।

এর আগে সরকারের কাছ থেকে বিনা মূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নেয়া এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে। রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলার তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।  তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ডা. সাবরিনার কারণে যেসব সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সময় টিভি, রাইইজংবিডি, চ্যানেল ২৪

Loading