২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:২৫
শিরোনাম:

কোভিট ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগেরপ্রচার সম্পাদকের মৃত্যু: কভিট ১৯ উপসরগ নিয়ে অপর আরএকজনের মৃত্যু: আক্রান্ত ১৩

মনিরুজ্জামামান সুমন,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আরা সুন্নার (৬৩) মৃত্যুর হয়েছে। গেল বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাপাতালের আইসোশেলন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, গত কয়েকদিন আগে ফেরদৌস আরা সুন্নার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। সেসময় তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত মঙ্গলবার তিনি করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তীব্র শ্বাসকস্ট শুরু হলে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহরেরর জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হবে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন,জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরসহ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এদিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ মাহমুদ সবদুল নামে এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির মৃত্যু হয়েছে। একই দিন রাতে উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে মারা যান তিনি। মৃত ফিরোজ মাহমুদ সবদুল (৪৫)একই গ্রামের খাদেমুল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে। মৃত্যুর পর তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, ফিরোজ মাহমুদ সবদুল গোপালগঞ্জ জেলায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে থাকাকালে তিনি জ্বর, সর্দি ও কাঁশিতে ভুগছিলেন। পরে বাড়িতে এসে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে গেল বুধবার রাতে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে তার মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আমহেদ সাঈদ জানান, ফিরোজ মাহমুদ সবদুল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দল।

এদিকে, গেল ২৪ ঘন্টায় চুয়াডাঙ্গায় এক চিকিৎসকসহ নতুন করে ১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে জেলায়
আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩৬ জনে। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০৫ জন ও মারা গেছেন ৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা.এএসএম মারুফ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,গত ২৪ ঘন্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে ২১ জনের নমুনার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১৩ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭ জন, জীবননগর উপজেলার ৫ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার
১ জন রয়েছেন।

এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের একজন উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার, পৌর এলাকার বাজারপাড়ার একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জন, বেলগাছি বিশ্বাসপাড়ার ১ জন, রেলপাড়ার ১জন, জীবননগর পোস্ট অফিস পাড়ার ২ জন,
ধোপাখালী গ্রামের ১ জন, হাসপাতাল পাড়ার ১ জন, থানা পাড়ার ১ জন ও দামুড়হুদার লোকনাথপুরের ১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে
৯ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী এবং তাদের একজনের বয়স ১৪ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা
সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ওয়ার্ডে ১৫ জন ও হোম আইসোলেশনে ১১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক
কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪ জন এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩১ জন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন ইতালি ফেরত এক যুবক। তার বাড়ি আলমডাঙ্গায়।জেলায়
মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৬ জন নারী-পুরুষ। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০৫ জন ও মারা গেছেন ৪ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য
ঢাকায় রেফার্ড করা হয় ৩ জনকে। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন একজন।

Loading