৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৪৪
শিরোনাম:

২১শে আগস্টের আলামত বিএনপি নষ্ট করেনি বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষ্য দিতে যাননি : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের যিনি এ কথাগুলো বলছেন তিনি নিজে থেকেই আলামত উপস্থাপন করেননি। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা যে গাড়িটা তারা চেয়েছিল তদন্তকারী সদস্যরা। তাদেরকে গাড়িটি দেয়া হয়নি। যখন মামলা শুরু হলো সেই মামলায় সাক্ষী ছিলেন একজন শেখ হাসিনা তিনি সাক্ষী দিতে যান নাই। অর্থাৎ তিনি কোনো সহযোগিতা করেন নাই। এতেই প্রমাণিত হয়েছে তারা ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি কে ব্যবহার করতে তখন চেয়েছেন। এখনো করছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মামলা থেকে বেনিফিট যদি কেউ হয়ে থাকেন সেটা তো আওয়ামী লীগ হয়েছে । কারণ এটাকে তারা একটা প্রোডাক্ট হিসেবে নিয়ে সারা বিশ্বকে বুঝিয়েছেন বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। একারণে 21 আগস্ট এর সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জড়ানোর চেষ্টা তারই একটা অংশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ দেশের স্বাধীনতার পতাকাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। সেই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে আজকে মিথ্যা ভাবে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ।

তিনি বলেন, এই মামলার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়াকে এতে সম্পৃক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে এই মামলার তদন্ত হয়েছে চার বার। সেখানে খালেদা জিয়ার নাম একবারও আসে নাই এবং যে রায় হয়েছে সে রায়ও কার্যকর শুরু হয়ে গেছে। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা আজকের নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার জন্য, তাদের যে ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরাচারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা কল্পকাহিনী শুরু করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের জীবনের কোন মূল্য না দিয়ে জীবিকার কোন মিল মূল্য না দিয়ে শুধুমাত্র তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের উপরে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে আহত করেছে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধাদের কোনো সম্মান নেই। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা নতজানু ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত তারই অংশ। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বারবার এ দেশে সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযোদ্ধা, যারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছেন। যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন। নতজানু পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করেন না। তাদের উপরেই আঘাত বারবার এসেছে এবং যেহেতু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি এদেশের গণতন্ত্র সূচনা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেছিলেন। সে কারণেই তাকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান সেটাকে খাটো করে দেখানোর জন্য এবং তাকে সেই 15 আগস্ট এর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা একটা ষড়যন্ত্র এটা পুরোপুরি ভাবে প্রমাণিত হয়েছে 15 আগস্ট এর হত্যার বিচার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচার হয়েছে। রায় হয়েছে। যারা আসামি আদালত যাদেরকে মনে করেছে ফাঁসি কার্যকর করেছে। সেটা নিয়ে নতুন করে আবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপচেষ্টা।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও দুর্বলতার কারণে এই সরকার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করতে পারে নাই।এই ঘটনার সঙ্গে যারা সমর্থন দিচ্ছেন চীন ও ভারত তাদের সঙ্গে কোনো রকমের রফা করার ক্ষমতা তাদের নেই । এখন পর্যন্ত এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সফর করেননি এবং জাতির সামনে এটাকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে পারেননি। যার কারণেই রোহিঙ্গাদের এই দেশের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রায়ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ‍শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একথা বলেন মির্জা ফখরুল।

Loading