৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:১৭
শিরোনাম:

সড়ক-ফুটপাতে কিছু পেলেই নিলামে বিক্রির কথা জানালেন মেয়র আতিকুল

সড়ক ও ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী, দোকান বা অন্য কিছু পেলেই তা সঙ্গে সঙ্গে নিলামে বিক্রি করা হবে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রোববার সকাল ৭টায় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ডিএনসিসির বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, সড়ক মেরামত, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অপসারণসহ বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে শুরু হওয়া পরিদর্শন মিরপুর, কচুক্ষেত, মগবাজার, গুলশান হয়ে বনানীতে গিয়ে শেষ হয়।

সকাল সাড়ে ৭টায় মেয়র উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখায় আতিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থানার পাশে ডাম্পিং করে রাখা গাড়িতে জমা পানিতে এডিস মশার লার্ভা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। মেয়র উত্তরার খিজির খাল পরিদর্শন শেষে সকাল ৮টায় মিরপুরের কালশী খাল এবং আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। কালশী এলাকার আশেপাশের গলিতে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

কালশীতে প্রেস ব্রিফিংয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, এরপর পরিদর্শনে বের হলে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট, ট্রাক, লোডার, বুল্ডোজার ইত্যাদি থাকবে। সড়ক ও ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী, দোকান বা অন্য কিছু পেলেই তা সঙ্গে সঙ্গে নিলামে বিক্রি করা হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন সুন্দর ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী রেখে তা নষ্ট করছে। এই শহরে এগুলো বরদাশত করা হবে না। ১ অক্টোবর থেকে আমরা ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজস্বের আওতা বাড়াতে চিরুনি অভিযান শুরু করা হবে। আমরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে যারা ট্যাক্সের আওতায় আসেননি, তাদের ট্যাক্সের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেবো। আমরা আজ শুরু করলাম, এটি চলমান থাকবে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কালশীতে একসময় অনেক জলাবদ্ধতা হতো, এখন আর সেরকম নেই। একইভাবে বনানী এয়ারপোর্ট রোডের জলাবদ্ধতাও নিরসন করা হয়েছে। আশকোনায় নতুন খাল খনন করা হয়েছে। মেট্রোরেল প্রজেক্টের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনেরও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম মিরপুরের কিছু রাস্তার উন্নয়নকাজ দ্রæত শেষ করার নির্দেশ দেন। মিরপুর থেকে মগবাজার যাওয়ার পথে কচুক্ষেতে রাস্তার ওপর ময়লার ভাগাড় দেখে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মগবাজার রেল ক্রসিংয়ের কাছে প্রধান সড়কে ফ্লাইওভারের নিচে রাখা ময়লার কন্টেইনারগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানে একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করতে রাজউক ও হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান।

এরপর গুলশান-১ ও ২ এর মাঝে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সামনের ফুটপাত দখল করে রাখা নির্মাণসামগ্রী দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন মেয়র। এসময় এভাবে ফুটপাত দখল করে বালু রাখায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ভৎর্সনা করেন মেয়র। কাউকে না পাওয়ায় বালু জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের সকল অবৈধ বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড অপসারণ করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর সাইদুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Loading