হুমায়ন কবির মিরাজ: উনার নাম হচ্ছে পাখি কুলসুম। যখন উনার বয়স যখন ছয় থেকে সাত বছর তখন ঢাকা কল্যাণপুরে তার বড় বোনকে ও তাকে তার মা একটি বাসায় কাজের জন্য দেয়।কল্যাণপুর তিনি যেই বাসায় কাজ করতেন সেই বাসার ঠিকানা হলো: ঢাকা কল্যাণপুর ,রোড নাম্বার 3 চেয়ারম্যান বাড়ি, মালিকের নাম আব্দুল সালাম । পাখি কুলসুমের মালিক তার মায়ের সামনে পাখি কুলসুমের সাথে অনেক ভালোব্যবহার করেছিল এবং তার মা চলে আসার পর তার সাথে ভালো ব্যবহার করত না তাকে খাবারে কষ্ট দিত এবং তাঁর সামর্থ্য বাইরে তাকে কাজ করতে দিত।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এক সময় পাখি কুলসুমের বাড়িতে আর্থিক সমস্যার সমাধান হয় তার মা-ও বাবাসহ তাকে কল্যাণপুরের বাড়ি থেকে নিতে আসে। কিন্তু তার মালিক কিছুতেই বাবা-মার সাথে পাখি কুসুমকে যেতে দেয়নি।ছোট পাখি কুসুমকে তার মালিক সবসময় বোঝাতে যে তোমার বাবা-মা ভালো না তারা তোমাকে নিয়ে হাত-পা ভেঙে ভিক্ষা করাবে তোমাকে বিক্রি করে দিবে। পাখি কুলসুম তার বাবা-মার সাথে সেদিন যায়নি খুলনাতে। কয়েক মাস পর তার বাবা মা আবারো তাকে নিতে আসে কয়েকজন আত্মীয় নিয়ে। কিন্তু তার মালিক তাদেরকে বাসার ভিতরে কখনোই ঢুকতে দেয়নি সবসময় নিচে রাস্তা থেকে তারা উপরে কথা বলতো। পাখি কুসুম এর সাথে কথা বলতে দেয়নিদেখাও করতে দেয়নি তারা বলেছে পাখি কুলসুম এখন থেকে এখানেই থাকবে ও তোমাদের সাথে যাবে না। সেদিন তার পরিবার অনেক কষ্ট পেয়েছিল এবং তার বাবা বলেছিল তুই একদিন অনেক পস্তাবি রে মা। সত্যি সে এখন অনেক পস্তাচ্ছি কিন্তু সে ছোটবেলায় বুঝেনি যে সত্যি তার পরিবার তার থেকে একদিন হারিয়ে যাবে।
তার মালিক তার উপর অনেক অত্যাচার করত। কয়েক মাস পর সে তার বাবা-মাকে খোঁজার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তা বাবা মাকে সে পায়নি সে বরং হারিয়ে যায় ।রাস্তায় পুলিশ তাকে দেখে সরকারি ভবো খানায় রেখে আসে সেখানেই সে বড় হয়।ভবো খানায় অনেক কষ্ট হতো শুধু তার না সেখানে যারা থাকতো তাদের সবারই অনেক কষ্ট হতো। এমনই একজন মা ছিল সেখানে যে তাকে মেয়ের মর্যাদা দেয়। ভবো খানা থেকে পাখি কুলসুম কে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। তারা একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠে এবং মা-মেয়ে দু’জনই কাজ করে। এখন পাখি অনেক বড় হয়েছে তার স্বামীর সাথে থাকে এবং সে এখন অনেক ভালো আছে।অনেকবার সে তার আসল বাবা মাকে খোঁজার জন্য খুলনায় গিয়েছে এবং যেই বাসায় কাজ করেছে কল্যাণপুরে সেই বাড়িতে গিয়েছে কিন্তু সে তার বাবা-মার সন্ধান পাইনি আজও সে তার বাবা মাকে খুঁজে। পাখি কুলসুমের এখন একটি ছেলেও আছে। প্রতিরাতে সে কান্না করে তার বাবা-মায়ের জন্য। আশেপাশে যদি সে খুলনার কোন মানুষকে দেখতে পায় সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে তার বাবা মায়ের নাম বলে যে তারা কি তার বাবা-মাকে চিনে।
পরিবারের সাথে কাটানো খুলনার সেই স্মৃতিগুলো ছোটবেলার যতটুকুই তার মনে আছে সেগুলো ভুলতে পারছে না এবং সে চায় মৃত্যু আগে হলেও তার বাবা-মার সাথে যেন দেখা করতে পারে এবং ভাই-বোনদের সাথে দেখা করতে পারে। তার ছেলে যেন ওর নানা নানি কে দেখতে পারে। নিচে পাখি কুলসুমের খুলনার পরিবারের সদস্যদের কিছু ইনফরমেশন যদি আপনাদের মধ্যে কেউ হয়ে থাকেন বা আপনাদের আশেপাশে ও যদি এই নামের এরকম কেউ থাকে আপনারা যারা খুলনাবাসী আছেন তারা যদি চেষ্টা করেন একটি অসহায় মেয়েকে তার পরিবারের কাছে আবার ফিরিয়ে দিতে তাহলে আমরা সবাই খুব কৃতজ্ঞ থাকবো আপনাদের কাছে। ১। তার মায়ের নাম জোসনা বেগম। ২। বোনের নাম ফাতেমা ডাকনাম নাজু। ৩। ভাইয়ের নাম রানা। তখন কুলসুম এর তিন ভাইবোন ছিল এবং কুসুম সবার ছোট ছিল কিন্তু এর পরে কোন ভাইবোন হয়েছে কিনা সে জানেনা। ৪। ফুফুর নাম কমলা। ৫। ফুপা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং তার দুটি পা ছিল না। ৬। ফুপুর ছেলের নাম মামুন। ৭। ফুফুর নাতিদের নাম ছিল বাচ্চু আরেকজনের নাম খোকন। উনি হল পাখিকুসুম। বয়স ২৬
![]()