২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৫২
শিরোনাম:

চুয়াডাঙ্গা র্দশনা করেুজ ডস্টিলিারীর পরবিহণ বভিাগরে ঠকিাদারি প্রথা বাতলি : র্অধ কোটি টাকা সাশ্রয়

মনিরুজ্জামান সুমন,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :  চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরুজ চিনিকলের ডিস্টিলারীর চিটাগুড় পরিবহণের ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রতিষ্ঠনটির অর্ধ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ঠিকাদারের মাধ্য চিটাগুড় আনায় অনেক সময় ভেজাল চিটাগুড় আনা হতো বলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ডিস্টিলারীতে প্রতি বছর ১৮ হাজার মে.টন চিটাগুড় (মোলাসেস) প্রয়োজন হয়। যা থেকে দেশী বিদেশী এ্যলকোহল উৎপাদন হয়ে থাকে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানাগেছে, ব্রিটিশ শাসন আমলে মূলোত ১৯৩৮ সনে প্রাথমিক ১৮ হাজার প্রুফ লিটার স্পিরিট তৈরীর লক্ষে তদানিন্তন
নদীয়া জেলার অর্ন্তগত দর্শনায় স্থাপিত হয় চিনিশিল্প, ডিষ্টিলারী ও বানিজ্যিক খামারের সমন্বয়ে কেরু এ্যান্ড কোম্পানী
(বাংলাদেশ) লিঃ নামের শিল্প কম্পেলেক্সটি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশ সুগার এ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ
করপোরেশনের অধীনে পরিচালীত হয়ে আসছে এ প্রতিষ্ঠনটি। এখানে রেকটিফাইড স্পিরিট, দেশী ও বিলেতী এ্যালকোহল,
(জিন, হুইস্কি, রাম, ব্রান্ড, ভদকা) ভিনেগার এশিল্প প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মূল পন্য। আর এসব উৎপাদিত
এ্যালকোহল তৈরীর মূল উপাদান চিটাগুড় (মোলাসেস)। ডিস্টিলারীতে প্রতিবছর চিটাগুড় লাগে ১৮ হাজার মে.টন।

নিজেস্ব চিনিকলে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মে.টন চিটাগুড় উৎপাদিত হয়। বাকি ১৪ হাজার মে.টন চিটাগুড় দেশের
বিবিন্ন চিনিকল থেকে কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ নগদ অর্থে ক্রয় করে থাকে। এর মধ্যে ফরিদপুর থেকে ১৫শ মে.টন,
কুষ্টিয়া থেকে ২ হাজার মে.টন, পাবনা থেকে ১ হাজার মে.টন, নর্থবেঙ্গল থেকে ৩ হাজার ৫শ মে.টন, নাটোর থেকে
১৫শ মে.টন, রাজশাহী থেকে ১ হাজার মে.টন, রংপুর থেকে ১ হাজার মে.টন, পঞ্চগড় থেকে ৫শ মে.টন, এবং
মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস থেকে ২ হাজার মে.টন। আর ক্রয়কৃত চিটাগুড় এত দিন ট্যাংক লরী পরিবহণ ঠিকাদারের
মাধ্যমে নিয়ে আসতো। বর্তমান চিনিকলের ব্যাবস্থা পরিচালক বিষয়টি আমলে নিয়ে নিজেস্ব পরিবহণে আনার পরিকল্পনা
গ্রহণ করে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনকে অবহিত করেন। করপোরেশন সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের ঠিকাদারি প্রথা
বাতিল করেদেন। চিনিকল সূত্রে জানাগেছে, ঠিকাদারের মাধ্যেমে চিটাগুড় আমদানিতে কর্তৃপক্ষের খরচ হতো ৯৬ লাখ
৭৮ হাজার ৫শ টাকা।

নিজেস্ব পরিবহণে আনার ফলে খরচ হচ্ছে ৫১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৫ টাকা। এ ক্ষেত্রে চিনিকল
কর্তৃপক্ষের সাশ্রয় হবে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ৫৪৫ টাকা। বর্তমানে চিনিকল কর্তৃপক্ষ এক মে.টন চিটাগুড় পরিবহণ খরচ
বাদে ক্রয় করছে ২২ হাজার টাকায়। নিজেস্ব ত্বত্থাবধায়নে পরিবহণের মাধ্যমে চিটাগুড় আনায় চিটাগুড়েরর গুণগত মান
যেমন ঠিক থাকছে তেমনি সময় মত মালামাল ডিস্টিলারীতে পৌচুছে। ঠিকাদারের মাধ্যমে চিটাগুড় আনালে অনেক সময়
তাতে ভেজাল মেশানো হতো।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠনকে লাভজন
প্রতিষ্ঠনে রূপ দিতে যা করনিয় তাই করা হবে। এর জন্য কোন প্রকার দূর্নিতী অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ব্যাক্তি
স্বার্থে নয়, প্রতিষ্ঠণের স্বার্থে সকলকে সততার সাথে কাজ করতে হবে। এতে সরকারের পাশাপাশি লাভবান হবে শিল্প
অঞ্চলের মানুষ। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, পরিকল্পনা এবং সন্মলিত প্রচেষ্টা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। এপ্রতিষ্ঠনের সাথে জড়িয়ে আছে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা। সেই সাথে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে
চিনিকলটি ভূমিকা রেখে চলেছে। সততা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে একদিন এ প্রতিষ্ঠনটি আরও উন্নতি করবে বলে
আমি বিশ^াস করি।প্রতিষ্ঠনটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সর্বমহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Loading