২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:১৭
শিরোনাম:

মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী বেচে ফ্ল্যাট গাড়ির মালিক আকতার হোসেন !

 রাজধানীর কল্যাণপুরের শেলটার হ্যারিটেজে রয়েছে ১৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। আছে টয়োটার দুটি গাড়িও। একটিতে চড়েন নিজে, অন্যটি পরিবারের জন্য। এসব কিছুই পাঁচ বছরের মধ্যেই করেছেন খুলনার আকতার হোসেন। তার কাজ বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী পণ্যে নতুন করে মেয়াদ বসিয়ে তা বাজারজাত করা। দেশের বিভিন্ন নামিদামি বিপণিবিতানে বিক্রি হয়ে থাকে আকতারের সরবরাহ করা এসব মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য। সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মজুদ রাখার দায়ে আকতার হোসেনকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বণিক বার্তা

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, বেসরকারি সাতটি ব্যাংকে আকতার হোসেনের ১৩টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। গত পাঁচ বছরে ব্যাংক হিসাবগুলোয় লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি টাকার ওপরে। এর বাইরে ৬৫ লাখ টাকায় শেলটার হ্যারিটেজের ১৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এছাড়া নিজের ব্যবহারের জন্য ২২ লাখ টাকার একটি টয়োটা এলিয়ন গাড়ি এবং পরিবারের জন্য কিনেছেন ১৭ লাখ টাকার টয়োটা এক্সিও।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, আকতার হোসেন খুলনা খালিশপুরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। পাঁচ বছর আগেও তিনি ঢাকার চকবাজার থেকে প্রসাধনী সামগ্রী কিনে বিক্রি করতেন খুলনা নিউমার্কেটের ফুটপাতে। দীর্ঘদিন এভাবে প্রসাধনী কেনাবেচা করতে করতে চকবাজারের এহসান কবীর নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশী প্রসাধনী নামমাত্র মূল্যে কেনার সুযোগ পেয়ে যান। এরপর ওই সব পণ্যে নতুন করে মেয়াদ বসিয়ে বিক্রি করতে শুরু করেন দেশের বিভিন্ন বিপণিবিতানে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই বনে গেছেন কয়েক কোটি টাকার অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের মালিক।

সিআইডির অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে গ্রেফতার হন আকতার হোসেন। শেল্টার হেরিটেজে তার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১১ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী। এর মধ্যে রয়েছে ফেড আউট ক্রিম, পন্ডস এইজ মিরাকেল, লরিয়াল, নেভিয়াসহ বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, আকতার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধন সামগ্রী সংগ্রহ করে তাতে নতুন মেয়াদ বসিয়ে বাজারজাত করে আসছিলেন। মূলত রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে এসব পণ্য সরবরাহ করতেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে মিরপুর থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

Loading