২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:২১
শিরোনাম:

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

হীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকরা নিরাপদ আবাসনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। আবাসনের দাবিতে তারা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া, উপপরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ ও মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও কোভিড ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রিপনের রুম ঘেরাও করেন। পরে তারা ৪৮ ঘণ্টা সময় চাইলে তাদের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শনিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই। চিকিৎসকদের সরকারিভাবে কোয়ারেন্টিন বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।

কোভিড ইউনিটে কাজ করা একাধিক চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের হোটেল নেই, কোনও আবাসনের ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ করতে পারেনি। কিন্তু আমরাতো আমাদের পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের আজ ডিউটি শেষ করে বাসায় যেতে হবে। একাধিক চিকিৎসকের পরিবারের একাধিক সদস্য আমাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন, মারাও গেছেন তিন চিকিৎসকের বাবা ও শ্বশুর। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোনও সমাধান আমরা পাইনি। আমরা কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর ভেতরে কোয়ারেন্টিনের কোনও সমাধান না হলে, আমরা করোনা ইউনিটে আর ডিউটি করবো না। তবে হাসপাতালের নন-করোনা ইউনিটে ডিউটি করবো।’

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও করে চিকিৎসকরাচিকিৎসকরা বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার কক্ষ ঘেরাও করা হলে তিনি আমাদের সামনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমকে ফোন করেন, কিন্তু তিনি কোনও সমাধান দিতে পারেননি।’

পাশাপাশি প্রায় ৬৫ জন চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া পরে বলেন, ‘চিকিৎসকদের দাবি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো বলে চিকিৎসদের জানিয়েছি। ইতোমধ্যে আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মন্ত্রণালয়কেও এটা জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তাদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য।’

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও করে চিকিৎসকরাপ্রসঙ্গত, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর ছয় হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত পরিপত্র অনুযায়ী করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলের বিল পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ হোটেলের সুবিধাও বাতিল করে তারা।

পরিপত্র অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী একজন চিকিৎসক দৈনিক দুই হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮০০ টাকা, একজন নার্স ঢাকার মধ্যে এক হাজার ২০০ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার টাকা এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী ঢাকার মধ্যে ৮০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৬৫০ টাকা ভাতা পাবেন।

Loading