২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:১৮
শিরোনাম:

কলেজ ছাত্রীর চুল কেটে অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি, অভিযুক্ত গ্রেফতার

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার নিয়ামতপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজের ছাত্রী রাব্বিনা আক্তার (সুমী) কে মাথার চুল কেটে অশ্লীল ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করায় এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ পুলিশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

উক্ত ঘটনায় কলেজ এবং ছাত্রীর বাবা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং নিয়ামতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত রায়হান (২৫) উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ঝাজিরা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।

অভিযোগ, কলেজ এবং সুমীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫ ঘটিকার সময় বালাহৈর বখাটে রায়হান তার ভাড়া বাড়ীতে রাব্বিনা আক্তার সূমীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রায়হান ও তার স্ত্রী মাথার চুল কেটে, মারধর করে অশ্লীল ছবি তোলে। রাব্বিনা আক্তার সুমী উপজেলা সদর ইউনিয়নের শাংশৈইল গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে।

সুমি বলেন, রায়হান এক মাস যাবত আমাকে বিভিন্ন ভাবে উত্তক্ত করতো। বিভিন্ন প্রকার কু-প্রস্তাব দিত। আমি রাজী না হওয়ায় গতকাল রবিবার বেলা ৩টা হতে ৪টা পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষন শেষে আমার স্যার নিয়ামতপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামাল হোসেনের নিকট প্রাইভেটের টাকা দিতে গেলে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছে আসলে রায়হান ও তার তিন বন্ধু আমাকে জোরপূর্বক তার ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে, দেড় ফিট লম্বা মাথার চুল কেটে ফেলে এবং আমার পর্ণ ছবি তুলে হুমকি দেয় যদি এসব কাউকে বলি তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে।

সুমি আরো বলে, আমাকে দুঘন্টা ঘরে আটকে রেখে আমার পর্ণছবি তোলে সন্ধ্যা ৭টার পরে থানায় নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। পরে আমার নানা থানায় এসে আমাকে আমার নানা বাড়ীতে নিয়ে যায়। রাত ১২ টা নাগাদ আমি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বেশী অসুস্থ হলে পড়লে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান বলেন, সূমী গত তিন চার দিন আগে আমার বাসায় এসে আমার স্ত্রী রূপাকে একটি ছেলের সাথে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেয়। এঘটনা আমার স্ত্রী রূপা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি সেদিন থেকে সুমিকে খুঁজতে ছিলাম। গত রবিবার বেলা ৫ টায় তাকে বালাহৈর জামে মসজিদের কাছে সুমীকে পেলে তাকে আমার স্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলাম চিনার জন্য। আমার স্ত্রী রূপা সুমীকে চিনতে পারায় তাকে ছেলেটির সম্পর্কে জানতে চাই। সুমী ছেলেটির কোন পরিচয় না দিলে আমরা তার অভিভাবকে ডাকতে বলি। সে অভিভাবকে না ডাকায় আমার স্ত্রী তাকে সামান্য চড়থাপ্পড় দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয় যাতে পরবর্তীতে আর কোন খারাপ কাজ করতে না পারে।

এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানার ওসি সামসুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Loading