বিশেষ প্রতিনিধি : একেবারে শীর্ষ পদ প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী- এমনকি কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করেন এখানে। যত প্রভাবশালী আর ক্ষমতাশালী হোন না কেন, সংশ্লিষ্টদের পকেটে টাকা গুঁজে দেয়ার আগ পর্যন্ত টেবিল থেকে ফাইল নড়া তো দূরে থাক, কম্পিউটারে টাইপ পর্যন্ত হয় না। এছাড়া তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী কায়কোবাদ, অতিরিক্ত প্রকৌশলী ফয়সাল রহমান এই চক্রের সদস্য।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। সরকারের উক্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরের অধিকর্তা তিনি। চলতি বছরের জানুযাারিতে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেলেও এরই মধ্যে নিজের নামের সঙ্গে জড়িছেন অনেক দুর্নাম। ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই তার কালেক্টর পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধু মান্নানকে বদলে এখন নিজ বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিমেল কে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। বন্ধু মান্নান স্বল্পতম সময়ে কয়েক কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়ে এখন বগুড়ায় আলিশান বাড়ি রেছেন।
প্রধান প্রকৌশলীর হয়ে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে তৌহিদুর রহমান হিমেল চলে আসার পর মান্নান এখন প্রধান প্রকৌশলী পতœীর হয়ে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য অর্থ সংগ্রহ করেন। দিন শেষে যা প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির পক্ষের লোকদের সম্পদের পাহাড় উঁচু করছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন রশিদ এন্টারপ্রাইজ এর কর্ণধার আব্দুর রশিদ। একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিকটাত্মীয় প্রধান প্রকৌশলী হওয়ায় তিনি এখন পুরোদস্তুর ঠিকাদার। ঠিকাদারি সাইনবোর্ডের আড়ালে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য শহর প্রধান প্রকৌশলীর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।
এদিকে সরকারের অবকাঠামো বিষয়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে থাকা প্রতিষ্ঠানটির এমন পাঁচ শতাধিক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা খুঁজছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদফতরে দুর্নীতির ১০টি উৎসও এরই মধ্যে চিহ্নিত করেছে। গণপূর্তের দরপত্র প্রক্রিয়াতেই দুর্নীতি বেশি হয় বলে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে-যথাযথভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা, অপছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেয়া, অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি, ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন, দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করা।
এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্পের প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতি, প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ, প্রকল্পের অনাবশ্যক ব্যয় বৃদ্ধি, স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তে বিলম্ব, প্রত্যাশী সংস্থার প্রয়োজনমতো জরুরিভিত্তিতে কাজ শেষ না করা, সেবা প্রদানের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা, সময়মতো ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করা এবং বরাদ্দ থাকার পরও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করাও চিহ্নিত হয়েছে অনুসন্ধানে।
অপরদিকে অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও ড. মো. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধেও। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের অনেকের বিরুদ্ধেই উত্থাপিত অভিযোগ ও দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম : দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির খোঁজ মিলেছে। যেমন- অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, দরপত্রের তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, বারবার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কারকাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা/প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেনামে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধালাভ।
র্পব-১, বিস্তারিত আসছে দেখতে চোখ রাখুন আমাদের নতুন বার্তা
![]()