২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৪৫
শিরোনাম:

শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে চালু হচ্ছে সব ধরণের চিকিৎসা সেবা

২৯ অক্টোবর থেকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সব ধরণের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা চালু হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল করোনা ডেডিকেটেডে হাসপাতাল ঘোষণা করার পর হাসপাতালটিতে এতোদিন শুধু কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছিল। এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে চিকিৎসা সেবা চালু হলেও নানা সংকটের আবর্তে রয়েছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংকটসহ রয়েছে নানা সমস্যা। ফলে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চিয়তা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে বহিঃবিভাগে এক হাজারেরও বেশি রোগী এবং আন্তঃবিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকবে। প্রতিদিন ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫টি অপারেশন হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এই অপারেশন বেড়ে গিয়ে ৫০ এ দাঁড়াবে। কিন্তু চিকিৎসা সেবার শুরুতেই কর্মরত থাকার কথা ১১৯ জন চিকিৎসক। কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। ৭৪ জন চিকিৎসকের পদ শূণ্য রয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীর সংকট রয়েছে। তাই প্রতিদিন ব্যাপক সংখ্যক রোগীদের সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন চিকিৎসকদের এমন বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করে বলেন, ‘কোভিড-১৯ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১৯ জন চিকিৎসক রয়েছে। তারা শুধু করোনা রোগীদের দেখভাল করবে। কিন্তু বৃহৎ সংখ্যক সার্জারি, গাইনী, মেডিসিনসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবা মাত্র ৪৫ জন চিকিৎসকদের দিয়ে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালানো অসম্ভব। তবে, আমরা হতাশ নই। আজ (বুধবার, ২৮ অক্টোবর) সকল চিকিৎসকদের নিয়ে সম্মিলিত সভা করেছি। চিকিৎসকরা কথা দিয়েছেন তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন। তারপরও আশঙ্কা থেকেই যায়।’

জেলা বিএমএ‘র সাধারণ সম্পাদক ও মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (এ্যানেসথেসিয়া) ডা. আবদুল ওয়াহাব বাদল বলেন, ‘শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন এবং আইসিইউ সঠিকভাবে চালু করতে হলে কমপক্ষে ১৫ জন এ্যনেসথেসিস্ট (অবেদনবিদ) প্রয়োজন। অথচ এখানে মাত্র দুইজন এ্যানেসথেসিস্ট কর্মরত রয়েছে। তাহলে প্রতিদিন কয়টি অপারেশন হবে কিংবা আইসিইউ অবস্থা কি তা বলা কঠিন। প্রতিদিন ১৫/২০টি অপারেশন করতে হলে কম করে ৫ জন এ্যানেসথেসিস্ট প্রয়োজন। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসা সেবা চালু হচ্ছে। এই মুহুর্তে চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে বলা যাবে না। তবে, কর্মরত চিকিৎসকরা বেশ উৎসাহী ও আন্তরিক। তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড দেখে আশাবাদী হয়েছি।’ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবেদুর রহমান ভূঁইয়া জিমি জানান, আজ (বুধবার, ২৮ অক্টোবর) রোস্টার ও দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

আশা করি রোগীদের আমরা সম্মিলিতভাবে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো। উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করার পর করোনা ব্যতিত সকল ধরণের চিকিৎসা সেবাসহ ইন্টার্ন প্রশিক্ষণ বন্ধ ছিল। পরে সার্বিক দিক বিবেচনা করে গত ২১ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক পত্রে করোনার রোগীদের পাশাপাশি সার্বিক চিকিৎসা সেবা চালুর করার এক নির্দেশনা দেয়া হয়। পত্রের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন ২৩ অক্টোবর কলেজের সকল চিকিৎসকদের নিয়ে এক সভা করেন। সভায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে হাসপাতালে সকল ধরণের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকল প্রকার রোগীদের চিকিৎসা সেবাসহ অপারেশন ব্যবস্থা চালুর অনুমতি পাওয়ার ফলে ৫০০ শয্যার এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে জনসাধারণের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। এছাড়া প্রশিক্ষণের দাবিতে আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও তাদের ইন্টার্নশীপ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন।

Loading