২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৪৬
শিরোনাম:

পাবনার ঈশ্বরদীতে মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি রাখার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

পাবনার ঈশ্বরদীতে মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি রাখার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামে জাহিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম ঐশী (২২)।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঐশী আওতাপাড়া গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী ও একই গ্রামের বাঁশেরবাদার মাহাবুল ইসলামের মেয়ে। আর তার স্বামী মো. জাহিদ হোসেন একই গ্রামের হারুণের ছেলে এবং রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সাব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের সংসারে আট মাসের একটি মেয়ে সন্তান আছে।

এই ঘটনায় ঐশীর মা বাদী হয়ে আজ রোববার জাহিদ ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে আসামি করে মামলা করেছেন। নিহত গৃহবধূর পরিবারের দাবি, স্বামী তার মানিব্যাগে প্রেমিকার ছবি রেখেছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

ঐশীর খালা রুপা বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জাহিদের সঙ্গে ঐশীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ঐশীর পরিবার ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। পরে আরও কিছু টাকা যৌতুক দাবি করেন জাহিদ। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। এর মধ্যে জাহিদ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। নিজের মানিব্যাগে জাহিদ ওই নারীর ছবি রাখেন। এর প্রতিবাদ করেন ঐশী। এ নিয়ে দুদিন ধরে তাদের দাম্পত্য কলহ চরম আকার ধারণ করে।

ঐশীর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, স্বামী জাহিদসহ তার পরিবারের সবাই বিয়ের পর থেকে যৌতুকের টাকা দাবি করে ঐশীকে মারধর করতো। গত শুক্রবারও ঐশীকে মারধর করা হয়।

পরে জাহিদ ((২৬) , তার মা মরিয়ম (৫০), ভাই মকলেছুর রহমান (২৯), ভাবি রেশমা খাতুন (২৪) বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এলাকার মানুষের কাছে খবর পেয়ে ঐশীর পরিবার মেয়েকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আাসলে বিস্তারিত জানা যাবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Loading