২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:০৩
শিরোনাম:

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে মাদারীপুরে ৪শ’ জেলের কারাদন্ড সহ ৩ কোটি টাকার জাল জব্দ

মাদারীপুরের শিবচরে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। নদীতে ও ডাঙ্গায় সার্বক্ষনিক পুলিশের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। একসাথে কাজ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম। এতে এবার ইলিশের উৎপাদন বাড়ার আশা জেলার মৎস কর্মকর্তাদের।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!
জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ প্রজনন মৌসুম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ২২দিনে নদীতে জাল ফেলা ছিল একেবারেই নিষিদ্ধ। সেই লক্ষ্যে মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদে তেমন কোন সুবিধা করতে পারেনি জেলেরা। জেলা ও শিবচর থানা পুলিশ এবং নৌপুলিশের সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিদিনই জেলা ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম। এতে যোগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, জেলা মৎস কর্মকর্তা রিপন কান্দি ঘোষ। তাদের নেতৃত্ব এবার শিবচর উপজেলায় ২২দিনে ৭৯ বার অভিযানে ৬২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। এ সময় ১১ লক্ষ ৩০ হাজার কারেন্ট জাল ও ২শ’ ৯৫টি অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়। আটকদের মধ্যে ৪শ’ ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিষেজ্ঞাধার ২২দিনে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সার্বক্ষনিক কাজ করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ ২২দিন দিনরাত ২৪ঘন্টা কাজ করেছে। যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা এখন নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাচ্ছেন। প্রত্যেকবার অভিযানে জব্দ মাছ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চলে গেলেও এবার পুরো মাছ এতিমখানায় দান করা হয়েছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এবার মা ইলিশ রক্ষায় ৪শ’ ৭৮টি মামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪শ’ ১৭ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এছাড়া নদীতে মাছ ধরা ও বিক্রির দায়ে মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মাদারীপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, এবারের ২২দিনের অভিযানে শিবচর উপজেলায় ২ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে সেই জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়া ৩শ’ ৫০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় দান করা হয়েছে। অন্যদিকে কারেন্ট জাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

Loading