২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৫৯
শিরোনাম:

গণপূর্তে টাকা না দিলেই বদলি, আতঙ্কে সৎ কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিনিধি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পেয়েই নামেন টাকা কামনোর মিশনে। প্রথমাবস্থায় দপ্তর ঠিক করতে শুরু করেন বদলি বাণিজ্যে। কর্মকর্তাদের কাছে দাবিকৃত মোটা অংকের টাকা না পেলেই বদলি করে দিচ্ছেন অন্যত্র। ইতিমধ্যে বেশকজন কর্মকর্তাকে বদলিও করেছেন। এতে সৎ ও টাকা দিতে না পারা কর্মকর্তারা পড়েছেন বিপাকে। তাদের যেকোনো সময় বদলি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রধান প্রকৌশলীর এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/এম কায়কোবাদ, এসডি কল্যাণ সাহা, ঢাকা মেট্রোপলিট ডিভিশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার ফয়সাল রহমান।  গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, একজন উপসহকারী প্রকৌশলী সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীর এমন খোলামেলা সম্পর্কে বিব্রত সিনিয়র প্রকৌশলীরা। প্রধান প্রকৌশলী সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হলেও কয়েকজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এর পক্ষে অনায়াসেই প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে তার খোলামেলা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি ও গণপূর্ত বিভাগে ওপেন সিক্রেট। এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে হিমেল, মান্নান, রশিদ ও ঈমোন অর্থ সংগ্রহ করে বলেও গণপূর্ত বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে পর্দা কেলেংকারীসহ অসংখ্য দুর্নীতির খবরে ব্যাপক সমালোচনা যখন আকাশ ছুয়েছে ঠিক তখনই গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক শীর্ষ প্রকৌশলী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০ কোটি টাকা লেনদেনের এহেন খবর পত্র-পত্রিকার প্রকাশিত হলেও দায়ী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কারো কেশাগ্র স্পর্শ করেনি কেউ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোন ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি।

স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের জন্য যে শীর্ষ কর্মকর্তা অভিযুক্ত তার সাথে সংশ্লিষ্টদের আপোষ মীমাংসা হয়ে গেছে মর্মে অনেকে বলে বেড়াচ্ছেন। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল মর্মে দুর্নীতির মহাকাব্য রচনা করে সংশ্লিষ্টরা তা বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছিল। দুর্নীতির সেই অভিযোগগুলোও ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, অভিযুক্ত এই শীর্ষ কর্মকর্তা সদর দপ্তরে যোগদানের পরপরই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪টি চিহ্নিত সার্কেলের ১১টি ডিভিশনে ব্যাপক হারে কোটেশন বাণিজ্য চলছে। নাম মাত্র কাজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করলেও দুর্নীতিবাজ শীর্ষ কর্মকর্তা তার সাগরেদদের থামানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে দুর্নীতিগ্রস্থ ডিভিশনের অপকর্ম নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধারাবাহিক ভাবে লিখলেও রসদের ঘাটতি হবে না। অভিজ্ঞমহল মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি তদন্ত সেল গঠন করে তদন্ত না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। (চলবে)

 

Loading