৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩৫
শিরোনাম:

ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রোকৌশলীরা, নতুন করে আবারো দুদকে অভিযোগ গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। বেপরোয়া ও দুনীতির শীর্ষে তার অবস্থান। সরকারের উক্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরের অধিকর্তা তিনি। দুনীতির কারণে তার নাম চলে এসেছে শীর্ষে। কাজ দেয়া অর্থ ১০ পারসেন্ট, বদলী ঠেকানো ১০ থেকে ৩০ লাখসহ প্রায় ১০টি খাতে তার আয়। এরই মধ্যে চাউর আছে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে মেয়ে বিয়ে দিলেন। তিনি আলোচিত হয়েছেন, কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের ওপর হামলার আসামী কায়কোবাদেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কেও কারনে। শেরেবাংলানগর-১ নির্বাহী প্রকৌশলী থাকার সময় বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পাশাপাশি তখন প্রধান প্রকৌশলীকে বাইপাস করে কায়কোবাদকে কাজ দিয়েছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বর্তমানে তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পডেছে বলে মনে করেন এই বিভাগের প্রকৌশলী কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে তার নামে বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আছে দুদককেও অভিযোগ। ঠিকাদার ঈমোন, গণপূর্তের আবু সাইম ,মিজান, আতিক ও আফসার দুদকের অভিযোগ থেকে প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমকে রক্ষায় নানামুখী তদবির শুরু করেছেন। এ কাজে তারা বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বন্ধু মান্নানকে বদলে এখন নিজ বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিমেল কে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। বন্ধু মান্নান স্বল্পতম সময়ে কয়েক কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়ে এখন বগুড়ায় আলিশান বাড়ি করেছেন। প্রধান প্রকৌশলীর হয়ে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে তৌহিদুর রহমান হিমেল চলে আসার পর মান্নান এখন প্রধান প্রকৌশলী পত্নীর হয়ে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

এরই মধ্যে প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ি়র পক্ষের লোকদের সম্পদের পাহাড় উঁচু করছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন রশিদ এন্টারপ্রাইজ এর কর্ণধার আব্দুর রশিদ। একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিকটাত্মীয় প্রধান প্রকৌশলী হওয়ায় তিনি এখন পুরোদস্তুর ঠিকাদার। ঠিকাদারি সাইনবোর্ডের আড়ালে বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য শহর প্রধান প্রকৌশলীর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে বাগিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। বর্তমানে সরাসরি জড়িত আছে মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসুর স্টাফ অফিসার ফয়সাল রহমান।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ বলে পরিচয় দিলেও বিএনপি পন্থী একজন সাংবাদিককে অর্ধকোটি টাকা দিয়েছেন শুধুমাত্র মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন একজন আ/এম এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।

প্রধান প্রকৌশলীর হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ছিটাচ্ছেন এসও আবু সায়েম জুয়েল, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম, ই/এম-৮ নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম। এই তালিকায় আছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কায়কোবাদ এর নাম।
নিজেদের অয়েশী জীবন যাপনের পাশাপাশি উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহি প্রকৌশলী এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন এক সাম্রাজ্য। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও এদের এমন বিলাসী ও আয়েশী জীবন যাপনে ক্ষোভ প্রকাশ করে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, একজন উপসহকারী প্রকৌশলী সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীর এমন খোলামেলা সম্পর্কে বিব্রত সিনিয়র প্রকৌশলীরা।

প্রধান প্রকৌশলী সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হলেও কয়েকজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এর পক্ষে অনায়াসেই প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে তার খোলামেলা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি ও গণপূর্ত বিভাগের কারো কাছে গোপন নয়। এরই মধ্যে টাকা না দেয়ার কারণে তিনি প্রায় ৩০ জন প্রকৌশলীকে বদলী করেছেন। এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে হিমেল, মান্নান, রশিদ ও ঈমোন অর্থ সংগ্রহ করে বলেও গণপূর্ত বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।

তবে এদের মধ্যে আশরাফুল আলমের বন্ধু মান্নান প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীর হয় অর্থ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত পছন্দমত কর্মকর্তার বদলী হয় না বলেও গণপূর্ত বিভাগ জনশ্রুতি রয়েছে। পাবনা ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের সময় ও বহুবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে এতকিছুর পরও প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এবং তার স্ত্রীর প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় জমেছে। যার বেশিরভাগই গণপূর্তের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের নামে করেছেন।

Loading