বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী ধর্মান্ধদের বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এসময় তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে শাহবাগ অবস্থান নেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এই ইস্যুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজত নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার তারা। শ্লোগানে, বিক্ষোভে প্রতিবাদ ভাস্কর্য নিয়ে বিরুপ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে।
শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাবুনগরীকে বলে দিতে চাই এই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে ভাস্কর থাকবে, তাদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি থাকবে। যেই হাত দিয়ে ভাস্কর্য ‘টাচ’ করবেন সেই হাত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ভেঙে দিবে।
মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, আপনারা যে হাত দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে দিতে চেয়েছেন সেই হাত আমরা ভেঙে গুড়িয়ে দেবো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে কেউ যদি হাত দেয় তাদের হাত আমরা বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবো। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কখনো পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেবো না।
তিনি আরো বলেন, মৌলবাদী শক্তি হেফাজতে ইসলাম বলাৎকারের কোন প্রতিবাদ করেনা। কারণ হেফাজতে ইসলাম ধর্ষণকারী ও বলাৎকারকারীদের রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়, বাংলাদেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছে, মেহনতি মানুষের ভাস্কর্য বাংলাদেশে থাকবে। এই বাংলাদেশের দিকে যদি আপনারা আঙ্গুলও তোলেন সেই আঙ্গুল আমরা ভেঙে দেবো। আজকে ধর্মের নামে আপনারা যে গোঁড়ামি শুরু করেছেন, মানুষকে বোকা বানানো শুরু করেছেন সেগুলো বাদ দিন।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিএনপির সাথে জোট করে শাসনক্ষমতায় ছিলেন, তখন আপনাদেরকে জোট করে ভাস্কর্য ভাঙার কথা শুনিনি। হঠাৎ করে ফ্রান্সের ওই ইস্যুকে নিয়ে যখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন, তখন এই ভাস্কর্য ইস্যুকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আপনারা ভাস্কর্য এবং মূর্তির পার্থক্য বুঝেন না। আপনারা ধর্মান্ধ, আপনাদের জন্য বাংলাদেশ পিছিয়ে যেতে পারেনা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসলাম আমাদের ধর্ম, আমাদের ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ির কোনো প্রয়োজন নেই। ফিতনা ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। অথচ এসব করে তারা নিজেরাই ফ্যাসাদ তৈরি করতে চায়।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিতর্ক সৃষ্টি করতেই একটি মহল উস্কানি দিচ্ছে। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ হেফাজত নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বাড়াবাড়ি বরদাশত করবে না সরকার।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা হবে, কোনো অপশক্তি নেই এটাকে ঠেকানোর।
ভাস্কর্য ইস্যুতে উলামা মাশায়েখের নাম দিয়ে কিছু লোক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে বলে মন্তব্য করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
![]()