৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩২
শিরোনাম:

উপমহাদেশে সর্বপ্রথম রাজনীতি শুরু করেছেন হজরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ : আব্বাসী (ভিডিও)

এবার টকশো কাঁপিয়েছেন মাওলানা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ফেস দ্যা পিপল নামের একটি ফেসবুক পেজে হওয়া এক টকশোতে অংশ নিয়েছিলেন জৈনপুরের পীর মাওলানা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এরপর এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যে কোট করা অংশে কথা শুরু করেন। শাহরিয়ার কবিরের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আবুল আ’লা মওদুদী রাজনীতি শুর করেননি। বরং উপমহাদেশে সর্বপ্রথম রাজনীতি শুরু করেছেন হজরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ.। তাঁর যুগ ছিলো আরও একশ বছর আগের যুগ। সুতরাং কথায় কথায় মওদুদীবাদ নিয়ে আসার দ্বারা আপনি জামায়াত ফোবিয়া ভুগছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে টকশোটি। এর পরিচালনা করেন ফেস দ্যা পিপলের আউনার সাইফুর সাগর।
টকশোতে প্রথমেই বক্তব্য শুরু করেন শাহরিয়ার কবির। এ সময় তিনি বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, মুওদুদীবাদ শক্তি উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ধর্মের নামে রাজনীতি শুরু করেন। তাদের রাজনীতিতে ছিলো অরাজকতা। তারা ছিলেন একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।

এরকম প্রজ্ঞাপূর্ণ উপস্থাপনা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বসম্পন্ন আরও অসংখ্য বক্তব্য রেখেছেন তিনি। তার বক্তব্যের কয়েকটি বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলো।

টকশোর এক পর্যায়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলেন, আপনাদের সেই আদর্শীয় রাষ্ট্রের নামটা বলুন, সাথে সাথে গণতন্ত্রের জন্মস্থান আমেরিকা রাশিয়া ও ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার নষ্ট কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। এতে লাভ কী হয়েছে?

তিনি বলেন, তরবারির জোড়ে ইসলাম আসে নাই কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তরবারির ব্যবহার হয়েছে ৷ তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক জিনিস আর ব্যবহার হওয়া আরেক জিনিস।

ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর উত্থাপিত প্রশ্নে উত্তর না দিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যান শাহরিয়ার কবির। তিনি তার বক্তব্য থেকে পিছু হটে শেখ মুজিবের উল্লিখিত পরহেজগারি ধর্মনিরপেক্ষতার এক নতুন বক্তব্য সামনে দাঁড় করান। অর্থাৎ আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ যে আসলেই একটা অকার্যকর নীতি সেটা স্বীকার করতে দেখা গেছে শাহরিয়ার কবিরকে।

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, অক্সফোর্ড এর ডেফিনিশন অনুযায়ী ধর্মনিরপক্ষতা মানে হচ্ছে সমাজ রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি জীবনে কোথাও ধর্মের অনুপ্রবেশ না থাকা। এ হিসেবে পৃথিবীর কোথাও ধর্মনিরপক্ষেতা নেই। কারণ আমেরিকায় ও বাইবেল ধরে শপথ করানো হয়। মূলত ধর্মনিরপক্ষেতা বলে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

টকশোতে দেখা গেছে, শাহরিয়ার কবিরের প্রশ্নের পাল্টা জবাবে আব্বাসী বলেছেন, শেখ মুজিবের ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীতা নয়। তিনি বলেন, শেখ মুজিব ধর্মহীনতা না চাইলেও বর্তমানে বুদ্ধিজীবীরা সেটাকে ধর্মহীনতার দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন।

ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে আব্বাসী বলেন, الضرورة تبيح المحظورات. والضرورة تتقدر بقدر الضرورة অর্থাৎ প্রয়োজনে সাময়িকভাবে অবৈধ জিনিস ও বৈধ হয়ে যায়। তবে এই বৈধতা প্রয়োজন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। খিলাফত মানে হচ্ছে আল্লাহর আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা। আরব বিশ্বের অনেক দেশে যদিও রাজতন্ত্র কিন্তু এখনো খেলাফাত রয়েছে। যেমন চুরির শাস্তি হাত কাটা। ব্যভিচারের শাস্তি ছঙ্গেছার। আপনাকে আগে খিলাফাত কাকে বলে তা বুঝতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার ভুমিকা কি ছিলো? এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, এগুলো জামায়াত বিএনপির প্যাঁচানো প্রশ্ন। তখন আব্বাসী বললেন, আপনি তো জামায়াত ফোবিয়ায় ভুগছেন। সব ব্যাপারে জামায়াতকে টেনে আনেন কেন?

কোরআনের বিরোধিতা করা থেকে বিরত রাখার জন্য এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরকে বলেন, যারা কোরআনের আইন কে অস্বীকার করে তারা কাফের। কেউ যদি কোরআনের কোন একটা আয়াত অস্বীকার করে আমি তাকে কাফের বলবোই।

এর উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, ব্লগারদের তো সরকার গ্রেফতার করেছে। তখন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী আবার বললেন, ব্লগারদের তখনই গ্রেফতার করেছে যখন সরকার দেখেছে একটা ব্লগারও তো বাঁচবে না, তখন ব্লগারদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করেছে। তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।

ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী শাহরিয়ার কবিরকে বলেন, আপনিতো ধর্মনিরপক্ষেতার কথা বলেন, তাহলে ব্লগারদেরকে সরকার কেন থামালো না, যখন তারা ইসলামী মূল্যবোধে বারবার আঘাত করছিলো? নাকি ধর্মনিরপক্ষেতা মানে হচ্ছে ইসলামের বিরোধিতা করা?

এমন অসংখ্য যুক্তিতর্কপূর্ণ একটি টকশো ছিলো গতকাল। টকশো শেষে শাহরিয়ার কবিরকে অনেক মলিন চেহারায় দেখা গেছে স্ক্রীনে। আলোচিত এ টকশোটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উল্লাস করতে দেখো গেছে।

Loading