বাগেরহাট প্রতিনিধি,
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!
বাগেরহাটের শরণখোলা ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মধ্যবর্তী বলেশ্বর নদের দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের জন্য দীর্ঘদিনে দাবি ছিল ফেরি চালু করা। অবশেষে সেই স্বপ্ন পুরণ হতে চলছে। শীগ্রই চালু হবে বলেশ্বর নদের রায়েন্দা-বড়মাছুয়া পয়েন্টের ফেরি চলাচল।
ইতোমধ্যে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়ায় সংযোগ সড়ক ও পন্টুন ঘাট থেকে উঠার পথের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শরণখোলার রায়েন্দা ঘাট ও সংযোগ সড়কের কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রায়েন্দা ও বড়মাছুয়া রুটে ফেরি চালু হলে শরণখোলা ও মঠবাড়িয়ার মধ্যে একটা সেতুবন্ধন তৈরী হবে। অ্যনেকটা সহজ হবে মংলা ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাছাড়া, শরণখোলা ও মোরেগঞ্জের মানুষ খুবই অল্প সময়ে যেতে পারবে পিরোজপুর, বরিশাল, ও বরগুনাতে। একইভাবে মঠবাড়িয়ার মানুষের শরণখোলা হয়ে মংলা ও খুলনায় যাতায়াতের পথও সুগম হবে।
জানা গেছে, এই ফেরি স্থাপনের পেছনে বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এবং সাবেক রেল সচিব মোফাজ্জল হক মন্টুর বিশেষ অবদান রয়েছে।
এছাড়া, প্রথম দিকে বাগেরহাট-৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন এই ফেরি চালুর উদ্যোগ গ্রহন এবং তা বাস্তবায়নের কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখে যান। তাদের প্রচেষ্টায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে জনগুরুত্বপূর্ণ রায়েন্দ-বড়মাছুয়ার এই ফেরি সার্ভিস চালুর অনুমোদন দেয় সরকার।
এব্যাপারে শরণখোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা ও সমাজসেবক এম ওয়াদুদ আকন তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, রায়েন্দা-বড়মাছুয়া ফেরি চালু হলে দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নও তরান্বিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া পারাপারের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে । দুই উপজেলা মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পুরণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারা।
বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ফেরি চলাচলের জন্য গত ৬ জানুয়ারি শরণখোলার অংশের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কাজের মধ্যে রায়েন্দা ঘাট থেকে পাঁচরাস্তার বাদল চত্বর পর্যন্ত ৭৭৫মিটার ১৮ফুট প্রসস্ত মূল সড়ক কার্পেটিং এবং ঘাট থেকে পন্টুনে ওঠার ১২০মিটার কথ ও গ্যাংওয়ে নির্মান করা হবে। যার সম্ভব্য ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া খালের উত্তরপাশে ঘাটের স্থান নির্ধারণ করে ৮৩লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০মিটার সড়ক ও পন্টুন থেকে ওঠার পথ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ হবে।
![]()