৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৫৭
শিরোনাম:

সেই রাতে গুলশানেও মদপান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী

রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটতেই পাঁচ দিন পর বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু উত্তরার রেস্তোরাঁ নয়, ঘটনার দিন রাতে গুলশানের একটি হোটেলেও মদপান করেছিলেন পার্টিতে অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থী। গুলশানে পার্টি শেষে তাদের একটি অংশ যান মাওয়া। বিষাক্ত মদপানে ফারাহ মারা যান হাসপাতালে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পুলিশ বলছে, তার আরেক বান্ধবী নেহার কোনো খোঁজ মেলেনি এখনো। বন্ধ রয়েছে তার মোবাইলও। এ ঘটনায় উত্তরার বিভিন্ন বার, ক্লাব, রেস্টুরেন্ট, হোটেলে পুলিশের অভিযানে বিপুল অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দের পাশাপাশি আটক করা হয়েছে ২২ জনকে। মামলা হয়েছে তিনটি।

গত ৩০ জানুয়ারি রাতে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী রাজধানী উত্তরার ব্যাম্বু শট রেস্তোরাঁয় পার্টিতে অংশ নেয়। সেখানে তারা প্রায় দুই ঘণ্টা পার করে। সবাই মিলে মদপান করে।

মদপান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে এক ছাত্রী। ব্যাম্বু শটে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পার্টিতে অংশ নেওয়া তারই বন্ধু রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে বান্ধবী নুজহাতের বাসায় নিয়ে যায়। পরে সেখানেই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

পরদিন সকালে ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যায় রায়হান ও তার বান্ধবী। সেখান থেকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার মারা যায় সে।

পুলিশ বলছে, উত্তরার পার্টি শেষে ওই রাতেই গুলশানে আরেক পার্টিতে অংশ নেয় নেহা ও আরাফাত। সেখান থেকে তারা যায় মাওয়া। পরে অসুস্থ হয়ে বিষাক্ত মদপানে আরাফাতের মৃত্যু হয়। তবে ৫ বন্ধুর একজন নেহার এখনও খোঁজ মেলেনি।

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, নেহা অসুস্থ হওয়ার পর তার অবস্থা কী? সে কী অবস্থায় রয়েছে, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে সে বিষয়টি খোলাসা হয়ে যাবে।

তদন্তের স্বার্থে আরাফাতের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

হারুন অর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যদি মামলার তদন্তের স্বার্থে লাশ তোলা প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে তোলা হবে।

এদিকে এ ঘটনার পর রাজধানীর উত্তরার ব্যাম্বু শটসহ বেশ কয়েকটি বার, ক্লাব ও হোটেলে পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছে ২২ জন।

ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, অভিযানে বেশকিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনটি মামলা করা হয়েছে। বেশকিছু সিসা বার ও ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিহত ছাত্রীর বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দুজন পাঁচ দিন করে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

Loading