৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৪৩
শিরোনাম:

চারদলীয় জোট সরকার আমলে উত্থান বোমারু মিজানের

তেজগাঁও পলিটেকনিকের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান। বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে মিজানের তৈরি বোমা দিয়ে সারাদেশে হামলা চালানো হয়, চলে দেশকে পেছনের ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বোমা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান একাধিক মামলার আসামি থাকা অবস্থায়ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তরালে চালিয়ে যান অপকর্ম।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গোয়েন্দাদের ধারণা, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তইয়েবার কুখ্যাত জঙ্গি নসরুল্লাহর কাছ থেকে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন মিজান। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বোমা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও তার নিবিড় যোগাযোগ ছিল। বোমা তৈরির দক্ষতার কারণেই সংগঠনে তার নাম হয় ‘বোমা মিজান’ বা ‘বোমারু মিজান’।

চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায়ে ২০০৮ সালে আদালত মিজানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া এক বিচারকের এজলাসে বোমা হামলার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়। অন্য আরেকটি মামলার রায়ে চট্টগ্রামের আদালত বোমা মিজানকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

২০০৯ সালের ১৪ মে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা থেকে বোমা মিজানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে ও গুলি করে দুই জঙ্গির সঙ্গে বোমারু মিজানকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাকি দুই জঙ্গি ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ। হাফেজ মাহমুদকে ওই দিন দুপুরেই টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে পুলিশ। পরে গভীর রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। অন্যদিকে বোমারু মিজান ও সালেহীনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ত্রিশালের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার পর মিজানকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা এই জঙ্গি মিজান বাংলাদেশে বহু নাশকতার হোতা। তাকে ধরতে নানা জায়গায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান বলে পুলিশের ধারণা।

এখানেই থেমে থাকেনি বোমারু মিজানের কর্মকাণ্ড। ২০১৪ সালে ২ অক্টোবর বর্ধমান জেলার সদর খাগড়াগড়ের একটি দোতলাবাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে সেখানে দুজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন বেশ কয়েজন। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর তদন্তে বেড়িয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। একে বোমা হামলা উল্লেখ করে এর সঙ্গে মিজানের সম্পৃক্ততা পায় ভারতীয় গোয়েন্দারা। খাগড়াগড়ের ঘটনার পরই পুলিশ তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। ২০১৫ সালে বুদ্ধ গয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডেও হাত ছিল তার। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে শেখ কাওসার নামে পরিচিতি পায় বোমারু মিজান।

কিন্তু খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত মিজান পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে আবারও ভারতে ফিরে গেলে ফাঁদ পেতে বেঙ্গালুরু থেকে তাকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত। পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত শেখ কাউসার ওরফে বোমারু মিজানের ২৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার এন.আই.এর বিশেষ আদালত। বোমারু মিজানকে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার- এনআইএ বিশেষ আদালত তাকে দেশদ্রোহিতা, বিস্ফোরক আইন ও বিদেশি আইনের ধারায় মোট ২৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ২৯ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে তাকে।

Loading