৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:২১
শিরোনাম:

আশাশুনি থানাকে মডেল থানা হিসেবে গড়তে ওসি’র নানামুখী কার্যক্রম

বি এম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে স্ব-গৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সু-সমন্বিত রাখতে পুলিশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। সরকার পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতি শ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম কবির ২০২০ সালের ০৭ই জুন থানায় যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যাচ্ছে আশাশুনি থানার দৃশ্যপট। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চোরাচালান, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি থানাকে সু-সর্জ্জিত মডেল ও মানবিক থানা হিসেবে গড়তে আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকল ধরণের পেশিশক্তি, অপশক্তিকে উপেক্ষা করে মেধা, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে তার কাজের এই সাফল্যে আশাশুনির ইতিহাসে কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। অভিজ্ঞ মহলের মন্তব্য এমন ওসি যদি বাংলাদেশের সব কয়টি থানায় থাকতো তাহলে বাংলাদেশে কোন দুর্নীতি ও অনিয়ম হতো না। ওসি মোহাম্মাদ গোলাম কবির থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন জিডি ও অভিযোগ করতে কোন টাকা লাগে না।

এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় নির্যাতিত সাধারণ মানুষের প্রতিনিয়ত থানার মেন ফটকের সামনে উঁপচেপড়া ভিড় করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। এছাড়া তিনি যোগদানের পর থানায় অভিযোগ করতে আসা অসহায় অভিযোগকারীকে নগদ অর্থ ও ত্রাণ দিয়ে সাহায্য করেছেন। উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর চন্দ্র শেখর হত্যার ২৪ ঘন্টার ভিতরে তথ্য উদঘাটন করে আসামীকে আটক, কুল্যার ডাকাতি হওয়ার এক দিনের মধ্যে তথ্য উদঘাটন করে আসামী আটক করা, বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারের চায়না বাংলা শোরুম থেকে চুরি হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে আসামী আটক করাসহ ক্যান্সার আক্রান্ত নাছিমা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এবং তাকে চিকিৎসার জন্য ফান্ড তৈরি করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। ওসি গোলাম কবির আধুনিক ও মডেল থানা গড়ার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাস্তবায়নে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি, নারী ও শিশু ধর্ষণ, পাচার, মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে এ পর্যন্ত ১৬৬টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলা নিম্পত্তি করেছে ১৭৮টি। নিয়মিত মামলায় আসামী গেফতার ২৩৬ জন।

মাদকদ্রব্য উদ্ধার গাঁজা ২কেজি ২৪০ গ্রাম, ফেন্সিডিল ১২৮ বোতল, ইয়াবা ১১৪পিচ, গ্রেফতারী পরোয়ানা জিআর মামলায় ৩৬৯জন, সিআর ৪৪৬জন, সাজাপ্রাপ্ত ৩০জনকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। ননএফআইআর প্রসিকিউশনে ৫৮টি ঘটনায় ২২৫জন অভিযুক্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে মামলায় আসামী গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধার এবং ২০কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার ও আসামী আটক ২জন। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, থানা ভবন সংস্কার, বাউন্ডারীর প্রচীরের পাশদিয়ে থানার ভিতরের চতুর্দিকে চওড়া ঢালাই রাস্তা নির্মাণ, থানা চত্বরে ফুলের বাগান, সজ্বির বাগান লাগিয়ে সৌন্দযর্য বৃদ্ধি, গোলঘর দৃষ্টিনন্দন করা, প্রাচীর সংস্কার, থানার ভিতরের পুকুরে মাছ চাষ করা ও থানার অফিসারদের জন্য নতুন চেয়ার তৈরি করে দেওয়া, থানা ভবনের ব্যারাকে পর্যাপ্ত লাইট ব্যবস্থা, বেডমিন্টন খেলার কোর্ট সংস্কার, গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ, ওয়াইফাই সংযোগ ও গোটা থানা এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা ও তার আপ্রাণ চেষ্টায় থানায় একটি নতুন গাড়িসহ নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজ করে তিনি ইতিমধ্যে সকলের নজর কেড়েছেন।

এছাড়া করোনা কালীন সময় নিজের জীবন বাজি রেখে থানা এলাকায় জন সচেতনাতা মূলক কর্মকান্ড, বিদেশ ও ইটভাটা থেকে ফেরা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করণ, করোনা ভাইরাসের ঘরবন্দি মানুষদের খাদ্য সরবরাহ, মাস্ক বিতরণ, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন, করোনার হাত থেকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, আম্পান মোকাবেলায় জন সচেতনাতা মূলক কর্মকান্ডে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

Loading