২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:০৪
শিরোনাম:

সফলভাবে বিট পুলিশিং করলে সমাজে অনেক অপরাধ কমে আসবে : আইজিপি

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রতিটি মামলা নিবিড়ভাবে তদারকির মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং অব্যাহত রাখতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। এক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়াতে হবে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের শাপলা কনফারেন্স রুমে কোয়ার্টালি অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে আইজিপি বলেন, পুলিশের আচার-আচরণে ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন এসেছে। ইতিবাচক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাই, থানায় আগত সেবাপ্রার্থীর সাথে যে কোনো প্রকার খারাপ আচরনের কথা বাস্তব নয়, গল্প ও কল্পকথার অংশ হোক। সেটি বিবেচনায় নিয়েই কাজ করছি আমরা।
তিনি বলেন, জনবান্ধব পুলিশ হতে হলে, থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদেরকে জনগণের সাথে ভালো আচরণ করতেই হবে, তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে, সেবাপ্রার্থীর প্রতি সাপোর্টিভ হতে হবে। তিনি বলেন, পেশীশক্তি নয়, পুলিশের কাজে আইনি সক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। মাদকের সাথে যে কোনো প্রকার অবৈধ সংশ্লিষ্টতার প্রমান পেলে পুলিশের যে কোনো সদস্যের প্রতি শূণ্য সহিঞ্চুতা প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে আমরা বিট পুলিশিং চালু করেছি। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সভায় ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ওয়াই এম বেলালুর রহমান অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২০ কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২০ কোয়ার্টারে মামলা রুজু হয়েছে ৫০ হাজার ৮৫৮টি, যা গত ২০১৯ সালের একই কোয়ার্টারে ছিল ৫৩ হাজার ৬১৬টি।
অর্থ্যাৎ বর্তমান কোয়ার্টারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মামলা হ্রাস পেয়েছে ২ হাজার ৭৫৮টি। আলোচ্য সময়ে পূর্বের কোয়ার্টারের তুলনায় (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২০) খুন মামলা কমেছে ১২৮টি, যা মোট খুনের মামলার ১৩ দশমিক ৩৫ ভাগ। এছাড়া, উদ্ধারজনিত কারণে মামলা হ্রাস পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সূচকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে । সভায় দেশব্যাপী পুলিশের সকল ইউনিটভিত্তিক ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, অপমৃত্যু, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার ইত্যাদি মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, করোনা ও টিকাদান সংক্রান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, বিট পুলিশিং প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। আলোচনাকালে, আইজিপি মহাসড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতি রোধে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে যৌথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশ সুপারগণ মাদক মামলা, ওয়ারেন্ট তামিল ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয়ভাবে পদোন্নতি পরীক্ষা গ্রহণ ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের সুফল তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিট পুলিশিংয়ের ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, দাঙ্গা, মারামারি ইত্যাদি অপরাধ অনেক কমেছে, যার সুফল জনগণ ভোগ করছে।

Loading

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!