৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪৩
শিরোনাম:

‘যুবরাজ সালমানের মদদেই খুন হন সাংবাদিক খাশোগি’

সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচক ও ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই বছর পর প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব দ্যা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেনস-ডিএনআই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের জানান, খুব শিগগিরই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এখনো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা না হলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। প্রতিবেদনটির বিষয়ে আভাস দিয়ে তারা জানান, খাশোগি হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের মালিক এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি তখনকার সময় থেকে প্রায় এক বছর আগেই জব্দ করেন সৌদির যুবরাজ।

ইতোমধ্যেই জামাল খাশোগিকে হত্যার বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই প্রথমবারের মতো সৌদি বাদশাহর সাথে জো বাইডেনের ফোনালাপের কথা রয়েছে।

এদিকে, তদন্তাধীন বিষয়ে আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এর আগে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে খাশোগি হত্যার তদন্ত করতে একটি বিল পাশ হয় মার্কিন কংগ্রেসে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে ৩০দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেসময় তাতে বাধা দিয়ে বলেন, এ কাজে সিআইয়ের গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে। কিন্তু বাইডেনের শাসনামলে সে প্রতিবেদনই এবার প্রকাশ হতে যাচ্ছে।

এর আগে, ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট, ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি ২০১৮ সালের ২রা অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার দেহাবশেষ আর পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব প্রথমে খাশোগি খুন হওয়ার কথা অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। খাশোগি হত্যায় সৌদির আদালত দেশটির পাঁচজন নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে খাশোগির পরিবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিলে তাদের সাজা কমিয়ে ২০ বছর করে জেল দেওয়া হয়।

Loading