৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৫৪
শিরোনাম:

গৃহকত্রীর নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু চাঁদনী হাসপাতালে ভর্তি

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশু চাঁদনী গৃহকর্মীর কাজে গিয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু সারা শরীরে গৃহকত্রীর নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ৯ মাস পর সে বাড়ি ফিরেছে। বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরের গৃহকত্রীর নির্যাতন করায় অসুস্থ্য শিশু চাঁদনীকে হাসপাতালে ভর্তি করা করেছে পরিবার। সে উপজেলার বনগ্রাম পশ্চিম পাড়ার তমিজ উদ্দিন তোজর মেয়ে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, করোনা শুরুর পর একই গ্রামের মাসুদুজ্জামান রান্টুর মেয়ে নেছার ঢাকার বাসায় বাচ্চা কাজের কথা বলে ১০ বছরের শিশু চাঁদনীকে নিয়ে যায়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এর কয়েকদিন পর থেকে শিশুটির পরিবারের সাথে গৃহকত্রী যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। গ্রামের মানুষের চাপের মুখে ৯ মাস পর মঙ্গলবার দুপুরের গৃহকত্রী নেছার বাবার থানা সদরের বাড়ি থেকে শিশুটিকে তার নানীর কাছে বুঝে দেওয়া হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামীম মাহমুদ জানান, পূর্ব থেকে মেয়েটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শারীরিকভাবে দুর্বল এবং আঘাতের চিহ্ন দেখেই ভর্তি করে নিয়েছি। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের বিছানায় বসে শিশু চাঁদনী তার নিজের শরীর থেকে কাপড় সরিয়ে গৃহকর্ত্রীর নির্মম নিযাতনে ক্ষত চিহ্নি দেখাচ্ছিল। থালা বাসোন ধোয়া, ঘরের কাপড় কাচা, ঘর মোছার কাজ খারাপ হলেই নির্যাতন করা হত।

শিশুটির বাবা জানান, অনেকটা জোর করে বাচ্চা দেখাশোনার জন্য চাঁদনীকে ঢাকায় নিয়ে যায়। মাসে মাসে মেয়ের পারিশ্রমিক হিসাবে তাকে টাকা দেওয়া কথা ছিল। কিন্তু একটা পয়সাও দেওয়া হয়নি। সে তার মেয়ের উপর নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। এ ব্যাপারে গৃহকত্রী নেছার বাবা মাসুদুজ্জামান রান্টু বলেন, কাজের মেয়ে নিয়ে এর ধরনের চক্রান্ত হয়। মঙ্গলবার তার বাসা থেকে মেয়েটিকে তার নানী নিয়ে গেছে। এ বিষয়টি তিনি ভিডিও করে রেখেছেন। শিশুটির গায়ে আগে থেকে পচঁরা রোগ ছিল। তার কিছু চিহ্ন ছিল।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমরুজ্জামান তালুকদার জানান, শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঢাকাতে ঘটেছে। শিশুটি এখন খোকসা হাসপাতালে ভর্তি আছে। বিষয়টি আমি জেনেছি। যদি কেউ অভিযোগ করেন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

Loading