২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২৯
শিরোনাম:

আমরা সরকার বিরোধী নই, কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা নামানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়: নুরুল ইসলাম জেহাদী

শুক্রবার বিবিসি বাংলায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেন, দেশে সহিংসতা এবং মামুনুল হকের ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য সংকট তৈরি করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মহাসচিব বলেন, এখন আমাদেরকে সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে, সব কাজে বাধা আসছে। যা সংকট ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। সরকার এবং হেফাজতে ইসলাম হাত মিলিয়ে চলছিলো। কিন্তু এখন সম্পর্কের অবনতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে হেফাজত এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করাটা সরকার ঠিক করছে না। আমরা তো প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী হলে যারা রাজনীতি করে তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদের রাজনীতির কোনও এজেন্ডা নেই। আমাদের এজেন্ডা ইসলামী এজেন্ডা। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। যে কোন মূল্যে এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং শান্ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, যারা ধর্ম ও রাজনীতির নামে সহিংসতা করবে, সরকারি বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা জ্বালাও পোড়াও করবে তাদের কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করায় এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও শক্তভাবে এইগুলো প্রতিরোধ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহনাজ মোমেন বলেন, মত প্রকাশের পরিবেশ না থাকায় হেফাজতের সংগঠন কখনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। আবার কখনো প্রভাব কমে আসছে।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম যে ধরনের মতাদর্শ প্রচার করছে, সেগুলো খুবই সংকীর্ণ এবং আশঙ্কাজনক মতাদর্শ। এরা অন্য কোনও মতকে গুরুত্ব দেয় না। যেগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে তোষণ করছে। যার মূল্য দিতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার হেফাজতকে ব্যবহার করে। হেফাজতের নিজস্ব কোনও রাজনৈতিক প্রোগ্রাম নেই।

সাবেক মন্ত্রী এবং শরীক ওয়ার্কাস পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ায় হেফাজত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমী মাদ্রাসা জননী উপাধি দিয়েছিলো। তার চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে।

জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার বলেন, মাদ্রাসায় অনেক সাধারণ মানুষ আছে। তাদের একটা জায়গায় আনার কৌশল অবলম্বন করেছিলো সরকার। এখন এগুলোকে মোকাবেলা করতে সরকার কঠিন অবস্থান নিচ্ছেন।

হেফাজতের নায়েবে আমীর আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, যা হবার হয়ে গেছে, এখন সরকার উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতিটাকে স্বাভাবিক করতে এগিয়ে আসলে, সব কিছুর সমাধান হবে। সম্পাদনা: রাশিদ

Loading