দিনে টার্গেট। রাতে চুরি। রাত জেগে নির্ভয়ে চুরি করতে ইয়াবা সেবন তাদের রুটিন ওয়ার্ক। রাজধানী দাপিয়ে বেড়ানো পাঁচ সদস্যের চোরের দলটিতে ভাগ করা থাকে দায়িত্ব। মূল হোতাসহ পুরো দলটিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, মূলত গ্রিল কেটে চুরি করে থাকে চক্রটি। সহস্রাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা। গভীর রাত, ফাঁকা কক্ষের এদিক-সেদিক বিচরণ। সন্ধান মূল্যবান কোনো কিছুর। নগদ টাকা, ল্যাপটপসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার এ দৃশ্য রাজধানীর উত্তরার একটি অফিসের।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা পুলিশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ৫ সদস্যের একটি চোরচক্রকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসা এবং অফিসে চুরি করা এই চক্রটি কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে চুরি করতে বের হয়। ভাগ করা থাকে দায়িত্বও তাদের।
চক্রের সদস্য নজরুল ওরফে সোহাগ মূল চুরির কাজটি করে থাকে। গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সে। পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে রিপন। দলনেতা আব্দুল গাফফার বাইরে থেকে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। চোরাই পণ্য বণ্টনের দায়িত্বও থাকে তার ওপর। আরেক সদস্য মাসুদ বাইরে থেকে মূল চোরকে তথ্য আদান প্রদান করে। আর বাকি থাকা মাসুদ তালুকদার চোরাই পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উপপুলিশ কমিশনার শরীফুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলা টার্গেট নির্ধারণের পর মধ্যরাতে অপারেশনে বের হয় তারা। চুরির আগে সবাই মিলে ইয়াবা সেবন তাদের নিয়মিত অভ্যাস ছিল। তিনি বলেন, এ চোর চক্রের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ইয়াবা সেবন করলে তাদের মধ্যে অলৌকিক শক্তি আসে তাদের শরীরে। শক্তির পাশাপাশি তারা রাতও জাগতে পারত। যে বাসায় তারা চুরি করত দিনের বেলায় সেটি রেকি করে রাতের বেলায় চুরি করত। স্বর্ণ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন মূলত এ ধরনের জিনিস তারা নিত।
চক্রের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০। কিশোর বয়স থেকে চুরি করতে করতে তারা এখন পাকা চোরে পরিণত হয়েছে।
![]()