২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:১৬
শিরোনাম:

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি মিলেছে সরকারের পক্ষে থেকে। লিখিতভাবে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে বলেও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মুক্তির অন্যতম শর্ত ছিলো, বেগম জিয়া বিদেশে যেতে পারবেন না। সূত্রমতে, রাতেই প্যারোলের শর্তাবলী সংশোধিত হয়েছে।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্রের খবর, বেগম জিয়ার পরিবার বৃহস্পতিবার রাতেই বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। এমিরেটস-এর ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর হয়ে লন্ডন যাবেন তিনি, প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে সেভাবেই। ব্রিটেন এরই মধ্যে বেগম জিয়াকে ভিসা দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত ১১ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া খবর জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎক। এরপর দ্বিতীয় দফার করোনার পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসলেও ২৫ দিন পর করোনা নেগেটিভ এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারো বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড। বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে এভার কেয়ার হাসপাতালে গেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার পরিবার যে লিখিত আবেদন জানিয়েছে তা গ্রহণ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি মানবিক কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার।

সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর অথবা লন্ডনে চিকিৎসার বিষয়টি সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে তার পরিবার। এর আগে বুধবার (৫ মে) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসায় আবেদনটি দিয়ে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এসেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা অভিমত দিয়েছেন তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও আমরা ডাক্তারদের কাছে শুনিনি।

আবেদনটি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনে যে পর্যায়ে আছে, কীভাবে কী করা যেতে পারে সেজন্য আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ করে দিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অত্যন্ত মানবিক।

এর আগে ৩ মে সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন তার বাসভবন ফিরোজায় আরও ৮ জন ব্যক্তিগত স্টাফও করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।

Loading