৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:০০
শিরোনাম:

ইনবক্সে রোগীর বার্তা, দাঁতের ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে এক গৃহবধূ গিয়েছেন দাঁতের ডাক্তারের কাছে। হাজী সি‌দ্দিক মা‌র্কেটে ওই ডাক্তারের চেম্বার। চেম্বা‌রের নাম ‘মীর ডেন্ট’। দামী আসবাব ও সুন্দর ডেকোরেশনে সাজানো চেম্বারটি। কয়েকবার এ‌ ডাক্তার‌কে দাঁতও দেখিয়েছেন। খরচ করেছেন হাজার হাজার টাকা। কিন্তু, চিকিৎসায় তার খটকা লাগে গৃহবধূর। তার মনে হচ্ছিল সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাই, তিনি যান অন্য ডাক্তারের কাছে। সেই ডাক্তার আগের ডাক্তারের চিকিৎসা সঠিক নয় এবং সন্দেহজনক বলে তাকে জানান।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার স্বামীকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলেন। কেননা, সেই ডাক্তার ও তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী। এখানে তাদের বাড়ি, সম্পত্তি ও অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাদের সঙ্গে ঝামেলায় গিয়ে এলাকায় টিকে থাকতে পারবেন না। কিন্তু, বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

তাই গতকাল মঙ্গলবার তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশ ফেসবুক পেজের ইনবক্সে বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠান। তিনি অনুরোধ করেন যেন, ওই ডাক্তারের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে, ভদ্রমহিলা কোনোভাবেই থানায় কোনো নিয়মিত অভিযোগ বা মামলা করতে অস্বীকার করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআই‌জি (মি‌ডিয়া অ্যান্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মো. সো‌হেল রানা এসব কথা জানিয়েছেন।

সোহেল রানা জানান, ভুক্তেভোগী নারীর বার্তাটি দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার মো. শামীম হোসেনকে পাঠিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। পাশাপাশি, দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার গোস্বামীকে পরামর্শ দেন বিষয়টি সুপারভাইজ করতে।

এরই প্রেক্ষিতে, ইন্সপেক্টর অপারেশন্স মো. আফতাব উদ্দন শেখের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম সাদা পোশাকে বিষয়টি তদন্তে নামে। তদন্তে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন অভিযুক্ত ডাক্তার পাস করা কোনো ডাক্তার নন। দাঁতের ডাক্তার হিসেবে তার কোনো প্রোফেশনাল সার্টিফিকেটও নেই। এই ব্যক্তি এভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। তবে ওই ডাক্তারের দাবী, তিনি তার ডাক্তার বন্ধুদেরকে চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকেন মাত্র। কিন্তু, সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুমোদিত ডাক্তার না হয়েও তিনি দাঁতের চিকিৎসা করছেন। পরে চেম্বার‌টি তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌য়। এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Loading