২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৪১
শিরোনাম:

৫ বছর আগে নিখোঁজ মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামী মূসা কোথায়?

বছর আগে নিখোঁজ মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা এখন কোথায়? নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় মুসকে প্রধান আসামি করায়৷ এই প্রশ্নটা সব মহলেই ঘুরপাক খাচ্ছে৷ তবে, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি এখন নিখোঁজ৷

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার বাদী ছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার স্বামী বাবুল আক্তার। ‘কিলার’ মুছার প্রশ্নে মামলাটি প্রায় থমকে গিয়েছিল। তবে তদন্তে অনেকটা নাটকীয়ভাবে এখন স্বামী বাবুল আক্তারই অভিযুক্ত। নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় প্রধান আসামিও তিনি। তবে তার ঘনিষ্ঠ ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা কোথায়? তা জানেন না কেউ। স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় স্ত্রী পান্না আক্তারও ৷

তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের রাতে আমি মিনতি করছি, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ২০১৬ সালের ২২ জুনের পর থেকে আমি ও আমার সন্তানরা তাকে পাইনি। অনেক দিন মুখ বন্ধ রেখেছি। আর নয়, আমার স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দোষী হোক, নির্দোষ হোক, আগে স্বামীকে ফেরত চাই।’

শুরুতে জঙ্গিদের সন্দেহ করা হলেও ২৬ জুন মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও আনোয়ার নামের দুজন গ্রেফতারের পর এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, খুনিরা ‘পেশাদার অপরাধী’। চিহ্নিত কিলারদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বাবুলের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ‘সোর্স’ মুছা পুলিশের ভাষায়, কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছাই মিতু হত্যায় নেতৃত্ব দেন। যদিও এখন পর্যন্ত সেই মুছার সন্ধান দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

২০১৬ সালের ৫ জুন বন্দরনগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামের বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। ওই হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বাবুল।

অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ার জেরে নিজ স্ত্রী মিতুকে খুন করান সাবেক এসপি বাবুল আক্তার ৷ মিতু হত্যায় মুছাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবুল আক্তারই৷

পান্না আক্তার বলেন, মিতু ভাবি দুই সন্তানের মা। আমিও দুই সন্তানের মা। আমি বুঝি বাবা-মাহারা সন্তানদের কী কষ্ট! আমিও প্রতিনিয়ত কষ্ট করছি। মিতু ভাবিকে খুন করতে হবে— এমন কোনো শত্রুতা বা কারণ ছিল না। এরপরও ওই হত্যায় বাবুল আক্তারের চাপে জড়িয়ে পড়েছিল মুছা। বাবুল আক্তারের পূর্বপরিচিত ও সোর্স হিসেবে কাজ করেছে সে।

মিতু হত্যায় নতুন মামলা হয়েছে। বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতার কথা শোনা যাচ্ছে। এখন তো আমাকে কথা বলতেই হবে। বাবুল আক্তারের জন্যই আজ আমার স্বামী অভিযুক্ত ও নিখোঁজ। নতুন হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থেই মুছাকে খুঁজে বের করা জরুরি মিতু হত্যার আসামি মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার
“স্ত্রী মিতুকে হত্যায় মুছাকে ব্যবহার করেছে সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। এজন্য কোনো কিছু হবে না মর্মে ‘শেল্টার’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বাবুল আক্তার”— বলেন মুছার স্ত্রী। আত্মসমর্পণের দিন সকালেই তুলে নেওয়া হয় মুছাকে৷

[৯] মিতু হত্যায় মুছার জড়িত কি না, এ ব্যপারে পান্না আক্তার বলেন, ‘প্রথমে তো আমি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু ঘটনার পর অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ছিল মুছা। কয়েকবার বাবুল আক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখেছি। দু-একদিন পরই টের পেয়েছিলাম মুসা কোনো না কোনোভাবে মিতু হত্যায় জড়িত। আমি জানতে চয়েছিলাম মুছার কাছে। ও বলেছিল, আমি করিনি, করাইছি। এছাড়া কোনো পথ ছিল না। নইলে আমার নিজেরই ক্ষতি হয়ে যেত।’

Loading