৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪৪
শিরোনাম:

অনলাইনে কেনাকাটা, ললনা ফ্যাশনের লোভনীয় অফারে ক্রেতার সর্বনাশ!

করোনা মহামারীকালে জমজমাট হয়ে উঠেছে অনলাইনে কেনাকাটা। এর ফায়দা লুটতে ওঁৎ পেতে আছে প্রতারকরাও। ফেইসবুকে বাহারি নামে পেইজ খুলে চলছে প্রতারণা। প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ললনা ফ্যাশন নামে একটি ফেসবুক পেজে শাড়ির বিজ্ঞাপন দেখে মেসেজ পাঠান ডা. মিতু বসাক। পরে তাদের কথামতো শাড়ির অর্ডার নিশ্চিত করতে শর্ত অনুযায়ী বিকাশে ১০০ টাকা পাঠান তিনি। পরদিন ২১ এপ্রিল এসএ পরিবহন কাকরাইল শাখায় ২ হাজার ৫০ টাকা দিয়ে শাড়ির পার্সেলটি গ্রহণ করেন তিনি। তবে বাসায় গিয়ে প্যাকেট খুলে দেখতে পান, নিম্নমানের শাড়ি দেওয়া। অর্ডার করা শাড়ির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এ ঘটনায় গত ১৯ মে হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগি। রোববার রাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন, তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার রুপা ও সহযোগী তানিম আল ইমরানকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল।

এছাড়া ডা. মিতুর মতো প্রতারণার শিকার হন সালমা আক্তার আইভী। তিনি ললনা ফ্যাশনে- দু’টি শাড়ি অর্ডার করেন । কুরিয়ার সার্ভিসে দাম শোধ করে বুঝে নেন পণ্য। বাসায় এসে মোড়ক খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ। যে শাড়ি অর্ডার দিয়েছিলেন, তা তো দেয়ইনি। দিয়েছে পুরনো, ছেঁড়া শাড়ি।

ভুক্তভোগী সালমা আক্তার আইভী বলেন, ওদের বললাম কেন এই কাজটা করলেন, তারা বলে আমরা গরীব তাই এই কাজ করি। পরে বলে জাকাত হিসেবে দিয়ে দেন।

দেড় বছরে আইভীর মত শত শত ক্রেতাকে ঠকিয়েছে ললনা ফ্যাশন। অগ্রীম টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে তাদের প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ললনা ফ্যাশন, শাড়ি ঘর, স্টার শাড়ি, আজকের শপ, ইজি শপ, স্টাইল বারসহ মোট আটটি ফেসবুক পেজের সন্ধান পায় পুলিশ। সেসব পেজে তাদের এডিটর ও এডমিন হিসেবে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(এডিসি) মো. জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, ওয়াদুদ হোসেন আগে কনস্ট্রাকশনের কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় এ প্রতারণায় জড়ান। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার রুপা গৃহিণী হলেও ওয়াদুদের প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করে আসছিলেন। আর সহযোগী তানিম পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পেজের বুস্টিং এর কাজ করেন। তবে প্রতারণামূলক পেজে বুস্টিং এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেন। ওয়াদুদ ও রুপার নিয়ন্ত্রিত দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে এক বছরে বিভিন্ন নম্বর থেকে লাখেরও বেশি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

Loading