এখন থেকে সরকারের অনুমোদন কিংবা সনদ নেয়া ছাড়া কেউ চালাতে পারবে না বেবি ডে কেয়ার সেন্টার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র। নিবন্ধন ছাড়া বেবি ডে কেয়ার সেন্টার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে। বুধবার (১৬ জুন) মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এ সংক্রান্ত ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নতুন আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, দেশে যৌথ পরিবার আস্তে আস্তে ভেঙে যাচ্ছে। বাড়ছে একক পরিবারের সংখ্যা। একইসাথে বাড়ছে কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা। কর্মজীবী ও পেশাজীবী মায়েদের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ফলে কর্মজীবী মায়েদের শিশুর জন্য মানসম্মত উপযুক্ত স্থানে নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার জন্য বেবি ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন এই আইনে বলা আছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার পাশাপাশি আইনের অধীন নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালালে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন এই আইনে।
এছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র থেকে শিশু হারিয়ে গেলে স্বচ্ছ ১০ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
শিশু বা ক্ষেত্রতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর জন্য অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন মাসে একবার করে শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করলে বা তথ্য গোপন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা হবে।
নতুন আইন পাস হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বর্তমানে কার্যক্রম চালু রাখা বেবি ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।
![]()