২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:১০
শিরোনাম:

চাকরি হারালেন ত্ব-হার বন্ধু সিয়াম

র্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মাদ আদনানের (৩১) বন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রোববার (২০ জুন) তিনি নিজেই চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে রংপুরে এইচআর (মানবসম্পদ) বিভাগে কাজ করতেন সিয়াম। গাইবান্ধায় যার বাড়িতে ত্ব-হা ও তার সফরসঙ্গীরা আত্মগোপনে ছিলেন সেই বাড়িটি সিয়াম ইবনে শরীফের। ত্ব-হা তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। এসব অভিযোগে শনিবার (১৯ জুন) তার চাকরি চলে যায় বলে জানা গেছে।

সিয়াম জানান, তার বাড়ি গাইবান্ধার ত্রিমোহিনীতে। তবে চাকরির সুবাদে তিনি রংপুরে বসবাস করেন। আবু ত্ব-হা আদনান তার স্কুলজীবনের বন্ধু। ত্ব-হাসহ চারজন যে তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, এটা তাকে জানানো হয়নি। এ কারণে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলেন। অন্য বন্ধু-বান্ধবদের মতো ত্ব-হার সন্ধান ও উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ত্ব-হাকে উদ্ধারের পর জানলাম, সে আত্মগোপনে ছিল এবং সেটা নাকি আমাদের বাড়িতেই। আমার মা ত্ব-হাদের সেখানে লুকিয়ে থাকার ব্যাপারে আমাকে একটিবারও কিছু জানায়নি। অথচ এখন অভিযোগ করা হচ্ছে, আমি নাকি তাদের লুকিয়ে রেখে মানববন্ধন করেছি। এটা মিথ্যা অভিযোগ, আমি কিছুই জানতান না।’

সিয়ামকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে মোবাইল ফোন কোম্পানিটির রংপুরের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ধর্মীয় বক্তা ত্ব-হার বিষয়টি দেশের আলোচিত একটি ঘটনা। পুরো বিষয়টি জানার পর সিয়ামকে শনিবার রাতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী বক্তা হিসেবে পরিচিত আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের দাদার বাড়ি রাজশাহী শহরে। অনেক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে ত্ব-হা ও মেয়েকে নিয়ে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে বাবার বাড়িতে ঠাঁই নেন আজেদা বেগম। ত্ব-হার ছোট বোন কারমাইকেল কলেজে অনার্সে পড়ালেখা করছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ত্ব-হা। একসময় রংপুরের ক্রিকেট অঙ্গনে সবার পরিচিত ছিলেন তিনি। রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দর্শন বিষয়ে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অনার্সে ভর্তি হন। মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কারমাইকেলে পড়াকালীন ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝুঁকে পড়েন এই ক্রিকেটার। কোনো আরবি শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা না করলেও ইসলাম ধর্মের প্রচুর বই পড়তেন এবং গবেষণা করতেন। ফলে অল্প দিনেই হয়ে ওঠেন একজন ভালো ইসলামী বক্তা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মসজিদে ইসলামি বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন। বিয়ের পর ত্ব-হা তার স্ত্রী এবং দেড় বছর বয়সী ছেলে ও তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে শালবন মিস্ত্রিপাড়া চেয়ারম্যান গলিতে ভাড়াবাসায় থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকেলে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যায় ত্ব-হা। সর্বশেষ ওই রাতে তিনি মোবাইলে জানান, তিনি সাভার যাচ্ছেন। এরপর রাত আড়াইটার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় ত্বহার। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।

শুক্রবার (১১ জুন) সকাল থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিন বিকেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মা আজেদা বেগম।

ঘটনার আট দিন পর শুক্রবার (১৮ জুন) চারজনেরই খোঁজ মেলে। উদ্ধারের পর ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ত্ব-হাকে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি, ত্ব-হা চারতলা মোড়ের পাশে আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ায় তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই। এরপর গাড়িচালক আমির উদ্দিন ও আবু মুহিত আনছারীকেও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধায় বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন চারজনই। বন্ধু বাসায় না থাকলেও তার মায়ের কাছে ছিলেন তারা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গীরাও তাদের ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন।

ত্ব-হা নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আলোকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে বিচারকের সামনে আত্মগোপনে থাকার কারণ উল্লেখ করে জনাববন্দি দেন ওই তিনজন। জবানবন্দি শেষে নিজ নিজ জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেন বিচারক। ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হাসহ অন্যরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরলেও চাকরি হারালেন বন্ধু সিয়াম।

 

Loading