২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৫২
শিরোনাম:

দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আন্ডার ওয়ার্ল্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আন্ডার ওয়ার্ল্ড। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এদের তৎপরতায় অশান্ত হয়ে উঠছে অপরাধ জগত। দেশের বাইরে থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দেশে থাকা তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কোরবানির অনেক পশুর হাট। কৌশল পরিবর্তন করে গোপনে ছোট পরিসরে বাসাবাড়িতে বসানো হচ্ছে জুয়ার আসর। আর মাদক কারবার, চাঁদাবাজিসহ ঠিকাদারি কাজ পেতে তাদের দৌড়ঝাঁপও বেড়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বাড়ায় খুনাখুনিসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা পুলিশের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠক থেকে সতর্ক করা হয়েছে ডিএমপির সব থানা পুলিশকে। থানার দ্বারস্থ হওয়া ভুক্তভোগীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাড়িতে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে রয়েছেন। সেখান থেকেই তাঁর অন্যতম সহযোগী সোহেল শাহরিয়াসহ অন্তত ১৩ জনের মাধ্যমে মতিঝিল থানা এলাকার শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, গোপীবাগসহ পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ ওরফে মন্টি দুবাইয়ে পালিয়ে আছেন। তিনি এখনো মগবাজার, মালিবাগসহ কয়েকটি এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাঁর অন্তত ২০ জন চ্যালাচামুণ্ডা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো কারবার প্রকাশ্যে আসার জেরে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ তাঁদের সহযোগীরা কিছুদিন ‘ডুব’ দিয়ে ছিলেন। এখন তাঁরা আবার মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছেন।

পুরান ঢাকার দুটিসহ আফতাব নগরের পশুর হাটের কয়েকজন ইজারাদার নাম গোপন রাখার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিলসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ফের ক্যাসিনোসহ জুয়ার কারবার শুরু হয়েছে। পরিসর ছোট করে কিছু বাসাবাড়িতে চলছে এসব জুয়ার আসর। কৌশল বদল করে এভাবে জুয়ার রমরমার তথ্য পেয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কারবারিদের ধরার চেষ্টা করছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক জুয়াড়ি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার সময় অত্যন্ত গোপনে বিভিন্ন বাসাবাড়ির কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে ক্যাসিনো ও জুয়ার কারবার। সেই সঙ্গে চলছে অনলাইন জুয়া।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে ঠিকাদারি কাজে ভাগ বসাতেও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা তৎপর রয়েছেন। সম্প্রতি দরপত্র দেওয়া ক্রীড়া পরিষদের একটি কাজ ভাগ করে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। এর নেতৃত্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী মানিক ও জিসান রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুর আইসিডিসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতেও এই অপরাধীচক্রের তৎপরতা বেড়েছে।

‘ই-টেন্ডারেও কারসাজি’

ক্রীড়া পরিষদে এখন ই-টেন্ডার হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এখানে কিভাবে কারসাজি হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও অফিস কর্মকর্তারা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রীড়া পরিষদের সমঝোতা হয়, তাদের আগেই কাজের বরাদ্দকৃত/অনুমান অর্থের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দর জেনে সেভাবেই দরপত্র দেয়। অন্য আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, অফিস কর্মকর্তারা অন্য ঠিকাদারদের কাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কিছু অংশ সরিয়ে ফেলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁদের দরপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এতে করে কয়েক বছর ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা একই ঠিকাদার ঘুরে-ফিরে কাজ পাচ্ছেন। ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগিতে বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের যোগসাজশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, সব ধরনের অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত আছে। অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

Loading